বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বিবর্তন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। ১৯৩০ সালে মাত্র ১৩টি দল নিয়ে এই টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল, তখন ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যেও এটা সফল হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু এরপর টুর্নামেন্টে ১৬টি দল হলো, ১৯৮২ সালে ২৪ দল, ১৯৯৮ সালে হলো ৩২ দল। সেটি এবার ৪৮ দলে এসে দাঁড়িয়েছে।
এই বিবর্তনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। ফিফা ফুটবলকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চিন্তা করেছে, যা সাধুবাদের যোগ্য। ফুটবল আসলে এমনই এক খেলা, যা শুরু হলে দেশের কোটি কোটি মানুষের মধ্যে দারুণ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সময়ের সঙ্গে খেলার ধরন বদলেছে। আগে লাতিন আমেরিকান আর ইউরোপীয় স্টাইলের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য বোঝা যেত। ইউরোপিয়ানরা লম্বা পাসে বেশি খেলত। এখন পার্থক্য করা কঠিন। কারণ, লাতিন খেলোয়াড়েরা ইউরোপের লিগে খেলছে এবং তাদের স্টাইলের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে।
এই বিশ্বকাপে তিনটি দেশে (আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে খেলোয়াড়দের যাতায়াতের ধকল পোহাতে হবে, অনুশীলনেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ২০০২ সালে যখন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আয়োজন করল, তখনও কিছু সমন্বয়ের সমস্যা হয়েছিল।
ফুটবল নিয়ে উম্মাদনা কখনো কমবে না কারণ, এটিই বিশ্বের এক নম্বর খেলা। ফুটবল–ভক্তদের খেলাটার সঙ্গে যে মানসিক সম্পৃক্ততা, তা অনেকটা উচ্চাঙ্গসংগীতের সাধকদের মতো। তাঁরা যখন খেলায় ডুবে যান, তখন বাইরের জগতের কোনো হুঁশ থাকে না।




















