জাপানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করার জন্য অতিরিক্ত কাজের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে, যা দেশের অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই পদক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে টাকাইচির নেতৃত্বে সরকার গ্রহণ করেছে, যিনি নিজেকে অতিরিক্ত কাজের পক্ষপাতী বলে দাবি করেন।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
জাপানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য নতুন বিধিনিষেধ অনুসারে, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে শ্রম মান পরিদর্শন অফিসগুলো আর কোম্পানিগুলোর ওপর ৪৫ ঘণ্টার সীমার চাপ দেবে না। প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিশেষ শ্রম-পরিচালনার চুক্তির অধীনে কাজ করছে যা আইনত প্রতি মাসে ১০০ ঘণ্টা পর্যন্ত অতিরিক্ত কাজের অনুমতি দেয়।
তবে এই কোম্পানিগুলোকে কর্তৃপক্ষ ৪৫ ঘণ্টার মাসিক সীমায় অতিরিক্ত কাজের পরামর্শ দিয়েছিল, যা আইনের সমপর্যায়ে বিবেচিত হত। কারণ, এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া হলে 'কারাশি' বা অতিরিক্ত কাজের ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া
নতুন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা হয়েছে, বিশেষ করে জাপানের কর্পোরেট সংস্কৃতি আধুনিকীকরণের দিকে গৃহীত পদক্ষেপের বিপরীতে। জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ কোম্পানিগুলোকে কাজের ঘণ্টা কমানোর নীতি থেকে দূরে সরিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী টাকাইচি নিজের অতিরিক্ত কাজের সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার জন্য পরিচিত, যিনি তার রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ার পর বলেছিলেন তিনি 'কাজ, কাজ, কাজ, কাজ এবং কাজ' করবেন। তিনি জুলাই মাসে একটি এক্স পোস্টে বলেছিলেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুধুমাত্র 'শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা' ঘুম করেন।
শ্রম মন্ত্রণালয় জোর দিয়েছে যে তারা কোম্পানিগুলোর ওপর নজর রাখবে যাতে করে তারা কর্মচারীদের কল্যাণ রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মন্ত্রণালয় বলেছে যে যদি অতিরিক্ত কাজের কারণে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তারা অবশ্যই নির্দেশনা দেবে। নতুন নিয়ম সমস্ত ব্যবসায়ের ওপর প্রভাব ফেলবে না, যারা বিশেষ শ্রম-পরিচালনার চুক্তি নেই তাদের জন্য আইনত মাসিক অতিরিক্ত কাজের সীমা ৪৫ ঘণ্টা বা তার কম থাকবে।







































