মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আজ রংপুরের গাঙ্গাচড়া উপজেলায় একটি গরুখামার ও তেল চাপাখানা পরিদর্শন করেছেন। গাঙ্গাচড়ার বেতগড়ি ইউনিয়নের খাপড়িখাল এলাকায় অবস্থিত প্যারাগন ডেয়ারি ফার্ম পরিদর্শন করে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত ১,২০০টি উন্নত গরুর ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। গরুর যত্ন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দুগ্ধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত গরুর প্রজনন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। প্যারাগন অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেয়ারি ফার্ম লিমিটেডের পরিচালনা পরিচালক মাসিউর রহমান এবং এজিএম মেজবাহ উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা রাষ্ট্রদূতকে খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে অবহিত করেছেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত খামারে উৎপাদিত দুধ পান করেছেন।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন খামার পরিদর্শনের পর বলেছেন, উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং মানসম্পন্ন পশুখাদ্য বাংলাদেশের পশুখামার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই কৃষিজাত পণ্যগুলো মার্কিন কৃষক এবং রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করছে। দুই দেশের কৃষি খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিক থেকে প্যারাগন ডেয়ারি খামার পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
পরে রাষ্ট্রদূত গাঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগড়ি ইউনিয়নের চাঁদনের হাটে অবস্থিত একটি প্রচলিত তেল চাপাখানা পরিদর্শন করেন। তিনি সরিষার বীজ থেকে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান এবং চাপাখানায় জড়িত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। রাষ্ট্রদূতের সাথে ছিলেন তার স্ত্রী ডায়ান ডো, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিকোল ক্ল্যারিসা বেসনার্ড, সৈয়দ ফয়জুস সালেহিন এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ। এ সময় রংপুর বিভাগীয় পশুপালন বিভাগের পরিচালক ডাঃ মোঃ আব্দুল হাই সরকার, রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত অতিরিক্ত অতিরিক্ত অধিক্ষেপক শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, গাঙ্গাচড়া মডেল পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ আব্দুস সবুর এবং উপজেলা পশুপালন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুর ১১টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত গাঙ্গাচড়া থেকে রওনা হন নীলফামারি জেলার দিমলা উপজেলার দালিয়ায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই পরিদর্শন বাংলাদেশের কৃষি ও পশুপালন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার গুরুত্বকে আরও তুলে ধরেছে। এটি দুই দেশের মধ্যে কৃষি খাতে সহযোগিতা এবং বাণিজ্যের সম্ভাবনা বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে।




































