চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও উয়েন আজ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিকট শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে তিনি রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব এমডি সরোয়ার আলম জানান, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত হয়েছে। সাক্ষাতের সময় চীনের রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতিকে চীন সফরে আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও উয়েন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নের বাণিজ্যিক চুক্তি এবং মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও উয়েন উল্লেখ করেন যে, কমপক্ষে ৩০টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে, যা শ্রমিকদের জন্য প্রায় এক লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা
দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আগ্রহের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তেস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু করা, রাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে “২+২” কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।
তাছাড়া, বাংলাদেশি জ্যাকফ্রুট, আম এবং গুয়াভা চীনে রফতানির প্রক্রিয়া, সৌর শক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের পরিচালনা, চীন-বাংলাদেশ-মায়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টা শক্তিশালী করার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও উয়েন স্মরণ করান যে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে চীন সফর করেছিলেন। উভয় পক্ষই শক্তিশালী এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব এবং সামরিক সচিব উপস্থিত ছিলেন।




































