BRICS দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তি ও সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে। নতুন দিল্লিতে এক শীর্ষ সম্মেলনে চীন, রাশিয়া, ইরান এবং ভারত সহ ১১টি দেশ এই আহ্বান জানিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ অন্যান্য নেতারা এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় চীন ও ভারতের ভূমিকা
চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে মে মাসে বৈদেশিক মন্ত্রীদের সমাবেশে ইরান, সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তবে ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে এই বিরোধ দূর করা সম্ভব হয়েছে।
BRICS দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'মধ্যপ্রাচ্য/পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার বৃদ্ধি নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করি। আমরা সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে এমন কাজগুলো এড়াতে আহ্বান জানাচ্ছি।'
BRICS এবং বিশ্বের প্রভাব
BRICS দেশগুলো ২০০৯ সালে গঠিত হয়েছিল পশ্চিমা শক্তির প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৃহত্তর প্রভাব অর্জনের লক্ষ্যে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, 'এই অধিকারের পিরামিডকে আমাদের পার্টনারশিপের প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে হবে।'
মোদি বলেছেন, BRICS দেশগুলো বিশ্বের ৫০ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ বিশ্ব জিডিপি এবং ২৫ শতাংশেরও বেশি বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে গঠিত। তিনি বলেছেন, 'আমাদের ব্যবস্থায় প্রতিটি দেশের একটি কণ্ঠ থাকা উচিত, প্রতিটি সদস্যের একটি অংশ থাকা উচিত এবং মানবতার উন্নয়ন প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রে থাকা উচিত।'
ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসউদ পেজেশকিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে 'আঞ্চলিক পুলিশ' হিসেবে ব্যবহার করার বিরোধিতা করে। তিনি আবুধাবির রাজকুমার খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি সাক্ষাৎ করেছেন।
চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করার প্রচেষ্টা চলছে। শি জিনপিং ২০১৯ সালের পর প্রথমবার ভারত সফর করেছেন। এই সফর উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে, উভয় দেশের মধ্যে অমীমাংসিত সীমান্ত বিবাদ এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়ে গেছে।



































