তুনীসিয়ার জেলখানায় তাপদাহের কারণে কমপক্ষে ২৩ বন্দীর মৃত্যু হয়েছে বলে এনজিওগুলো অভিযোগ করেছে। তুনীসিয়ান লিগ ফর হিউম্যান রাইটস (এলটিডিএইচ) জানিয়েছে যে, ডাক্তার, আইনজীবী এবং বন্দীদের আত্মীয়স্বজনের তথ্য অনুসারে ২৩ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। তাপদাহ ও ওভারক্রউডিং জেলখানার অবস্থা আরও খারাপ করে দিয়েছে বলে এনজিওগুলো অভিযোগ করেছে।
এলটিডিএইচ-এর সভাপতি বাসেম ত্রিফি বলেছেন, ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও অবস্থা অমানবিক, তবে তাপদাহ এবং কখনও কখনও ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার কারণে ওভারক্রউডেড কোঠায় বন্দীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।’ তুনীসিয়ার জেলখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ওভারক্রউডিং এবং খারাপ অবস্থার জন্য সমালোচিত হয়ে আসছে।
ওভারক্রউডিং, অপর্যাপ্ত বায়ুচলাচল এবং সীমিত পানির অ্যাক্সেসের অভিযোগ করে এনজিওগুলো, যা জেল প্রশাসন অস্বীকার করেছে। ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইন্স টর্চার (ওএমসিটি) এই সপ্তাহে বলেছে যে তারা ‘জেলের অবস্থার অবনতি এবং মৃত্যুর বৃদ্ধি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গ্রুপটি ‘স্বচ্ছ’ এবং ‘স্বাধীন’ তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
জেলখানার অবস্থার বিষয়ে বন্দীদের আত্মীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রপতি কাইস সাইয়েদের প্রধান সমালোচকদের আত্মীয়রাও তাদের উদ্বেগ সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। জেলখানায় রাষ্ট্রপতির সমালোচকদের মধ্যে রয়েছেন এনহাদা পার্টির নেতা রাশেদ গানৌচি এবং ৮২ বছর বয়সী কর্মী আহমেদ নেজিব চেব্বি।
জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সমস্ত বন্দীকে ‘নিয়ম অনুসারে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে’ এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ‘সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে সাইয়েদ ক্ষমতা দখলের পর হাজার হাজার রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওএমসিটি তুনীসিয়ার কর্তৃপক্ষকে বন্দীদের জীবন রক্ষার জন্য ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়ার এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলোকে জেল পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এলটিডিএইচ বলেছে যে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে তাদের জেল পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এই সংবাদের গুরুত্ব রয়েছে কারণ এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। বিশেষ করে জেলখানায় বন্দীদের অধিকার এবং মানবিক চিকিৎসার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে প্রসঙ্গিক।






















