রাশিয়া বলেছে যে, নাটো দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্র যদি লিথুয়ানিয়ায় স্থাপন করা হয় তাহলে সে দেশটি রাশিয়ার পারমাণবিক নিশানায় পরিণত হবে। লিথুয়ানিয়া বর্তমানে তার সংবিধানের একটি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিচ্ছে যাতে দেশটিতে পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণ করা যায়। এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের প্রেক্ষিতে লিথুয়ানিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য নেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তটি বর্তমানে সংসদে চলমান, যেখানে এটি পাশ করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এই পরিকল্পনা সংসদে এগিয়ে যাওয়ায় এটি এই শীতকালে কার্যকর হতে পারে। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন রয়েছে এই পরিকল্পনার সাথে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলেছেন যে, এই পরিকল্পনা চাপ বৃদ্ধির দিকে একটি খুবই গুরুতর পদক্ষেপ হবে। তিনি বলেছেন, 'যদি আমাদের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করা পারমাণবিক অস্ত্র তাদের অঞ্চলে থাকে তাহলে তার অঞ্চল আমাদের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্রের নিশানায় পরিণত হবে।'
লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রপতি গিতানাস নাউসেদা জুলাই মাসে এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, তার দেশ পারমাণবিক নিরসনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করতে চায়।
পারমাণবিক নিরসন বলতে বোঝায় এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা হয় তাদের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতির মাধ্যমে। এই ব্যবস্থাটি শীতল যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল।
বর্তমানে, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের প্রেক্ষিতে ইউরোপে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নাটো দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। লিথুয়ানিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণের পরিকল্পনা এই প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাশিয়ার হুমকি এবং লিথুয়ানিয়ার পরিকল্পনা উভয়ই ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



















