ইয়েমেনের রিয়াদ-পন্থী সরকারি বাহিনী বলেছে তারা মোকা শহরে ইরান-পন্থী হুসি জঙ্গিদের উপর আঘাত হানেছে। মোকা শহরে হুসিরা গত শুক্রবার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে এই হামলা চলছে। হুসিরা ইয়েমেনের লাল সাগর উপকূল দখল করেছে বলে দাবি করেছে, যা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে দিয়েছে। এটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ খাল।
সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবা বলেছে, সশস্ত্র বাহিনী মোকা শহরের বন্দরের কাছে হুসি জঙ্গিদের গাড়ি ও অস্ত্র ধ্বংস করেছে এবং তাদের কিছু সদস্যকে হত্যা করেছে। সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি বলেছেন, তারা মোকা-ধুবাব রাস্তায় হুসিদের গাড়ি ও সদস্যদের উপর আঘাত হানেছে। এটি মোকা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে।
নাজিলি বলেছেন, তারা শুক্রবার মোকায় বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণ শুরু করেছে এবং নাগরিকদের তাইজ-মোকা ও মোকা-ধুবাব রাস্তা ব্যবহার না করতে বলেছে। হুসিরা বৃহস্পতিবার মোকা শহর দখল করেছিল, যার ফলে অনেকে আদেন শহরে পালিয়ে গিয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অবস্থান করছে।
হুসি মিডিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার মোকার বিমানবন্দরে সৌদি আরবের দুটি হামলা হয়েছে। একটি স্থানীয় কর্মকর্তা বলেছেন, শহরের বন্দরে ছয়টি অজানা উৎসের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানেছে। হুসিদের আক্রমণ, যা গত সপ্তাহে শুরু হয়েছিল, উভয় পক্ষের উৎস অনুসারে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা বলেছে, প্রায় ৪৬,০০০ মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে। এটি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের পুনরায় শুরুর অংশ, যা ২০১৪ সালে হুসিরা রাজধানী সানা দখল করার সাথে শুরু হয়েছিল।
এই সংঘাত ইয়েমেনের জনগণের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। ইয়েমেন ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল রাষ্ট্র এবং এই নতুন সংঘাত আরও অস্থিরতা বৃদ্ধি করতে পারে। বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ইয়েমেনের অস্থিরতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে, যা বিশ্ব বাজার এবং জীবনযাত্রার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।


































