ইয়েমেনের হৌসি বিদ্রোহীরা লালসাগরের প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে ১২০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহীরা ইরানের সমর্থনে বৃহস্পতিবার ভোরে দক্ষিণ ইয়েমেনের তটরেখার কাছে একটি স্থল আক্রমণ শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল লালসাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দাব প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
আক্রমণটি শুরু হয়েছিল হৌসিরা যখন দক্ষিণ ইয়েমেনের তটরেখার কাছে রকেট এবং ড্রোন হামলা চালায়। এর ফলে ইয়েমেনের দশ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
হৌসিরা যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়, বিশেষ করে লালসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। হৌসিরা ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করেছে, যা গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চলছে।
পটভূমি
ইয়েমেন দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। হৌসি বিদ্রোহীরা, যারা ইরানের সমর্থন পায়, সৌদি-সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে হৌসিরা ইয়েমেনের উত্তরে অবস্থিত হোদেইদা বন্দর শহর এবং মোখা শহরের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে চায়।
হৌসিরা লালসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়। লালসাগর হল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজচলা রুট, যা ভারত মহাসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যকে সংযুক্ত করে। ইরানের হোরমুজ প্রণালী বন্ধ করার পর লালসাগর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি তেল রপ্তানির জন্য একটি বিকল্প রুট।
কি হবে এর ফলাফল?
হৌসিদের আক্রমণের ফলাফল হিসাবে, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। হৌসিরা যদি লালসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে তারা তেল রপ্তানি এবং বাণিজ্যের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও বেশি ক্ষতি করতে পারে।
















