রাজশাহীতে আমন ধানের ফুল আসার এবং দানা গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে চাষীরা ভালো ফসল পাওয়ার আশা করছেন। কয়েকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে চাষের খরচ বেড়ে গিয়েছিল এবং ফসলের উদ্বেগ বাড়ছিল। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ার পর তাদের উদ্বেগ কমে গেছে।
আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেছে যে, এ মৌসুমে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯৯.৪ মিলিমিটার। দীর্ঘ শুষ্কতার পর এই বৃষ্টি আমন ক্ষেতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরিয়ে দিয়েছে এবং সেচের প্রয়োজন কমিয়ে দিয়েছে।
ফলে, চাষীরা শুধু ভালো ফসল পাওয়ার আশা করছেন না, বরং প্রতি বিঘায় প্রায় এক হাজার টাকা সেচ খরচ বাঁচাতে পারবেন বলে আশা করছেন। প্রকৃতির সহায়তায় এবং চাষীদের অতিরিক্ত যত্নের কারণে এখন রাজশাহীর বিশাল ক্ষেতগুলো সবুজ আমন ধানে ভরপুর। শুষ্কতার উদ্বেগ দূর হওয়ায় চাষীরা এখন পরিপক্ক সোনালি ধানের আশায় আছেন।
পাবা উপজেলার বিভিন্ন ফসল ক্ষেত পরিদর্শন করে দেখা গেছে যে, সাম্প্রতিক বৃষ্টির পর আমন ক্ষেতের দৃশ্য পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যথেষ্ট আর্দ্রতা তৈরি হওয়ায় সেচের প্রয়োজন কমে গেছে। পাবা উপজেলার উজিরপুকুর এলাকার চাষী নজির উদ্দিন পাঁচ ও এক অর্ধ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, বৃষ্টি ধানক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি করেনি, বরং খুবই উপকারী হয়েছে। কৃত্রিম জলের পরিবর্তে বৃষ্টির জল পেয়ে ধান গাছগুলো খুবই তাজা ও সুন্দর হয়ে উঠছে। 'গত বছর আমি প্রতি বিঘায় ২২ মণ ধান পেয়েছিলাম। এই বছরও আমি ভালো ফসল পাওয়ার আশা করছি।' চাষীদের গণনা অনুযায়ী, বিএমডিএ গভীর টিউবওয়েল থেকে সেচের খরচ প্রতি বিঘায় প্রায় ২৫০ টাকা।
সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে দুই থেকে তিন রাউন্ড সেচের প্রয়োজন কমে গেছে, ফলে প্রতি বিঘায় প্রায় এক হাজার টাকা বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। চাষীরা বলেছেন, ধানের পাতা ধুয়ে পরিষ্কার করার পাশাপাশি বৃষ্টির জল তাপজনিত রোগ এবং কীটপতঙ্গের ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে দেয়।
পাবা উপজেলার খড়খড়ি এলাকার চাষী আস্তান আলী বলেছেন, আমন ধানের জন্য বৃষ্টি খুবই বড় আশীর্বাদ। সেচ এবং কীটনাশক খরচ কমে যায়। 'গত বছর আমি প্রতি বিঘায় ২০ মণ ধান পেয়েছিলাম। এই বছরও আমি ভালো ফসল পাওয়ার আশা করছি।' কৃষি প্রসার অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ৮২,৪৫২ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে এই জমি থেকে ৩,১৪,৩৩৬ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করা।













