রাজশাহীতে এই বছর পাট চাষ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নত আবহাওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া চাষাবাদ এবং বাজার মূল্যের বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা আনন্দিত। কৃষি বিস্তার অধিদপ্তরের মতে, এই বছর রাজশাহী জেলায় প্রায় ৪৯,০০০ টন পাট উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি মণ পাটের বর্তমান বাজার মূল্য ৪,০০০ থেকে ৪,৩০০ টাকা, যা মোট ৫৪৮.৮২ কোটি টাকার আয় সৃষ্টি করবে।
পাট চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কারণসমূহ
এই বছর রাজশাহী জেলায় পাট চাষের আওতায় ১৮,৩৯৯ হেক্টর জমি আনা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। কৃষি বিস্তার অধিদপ্তর বর্তমান বছরের জন্য ৪৯,০০০ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, যা গত বছরের ৪৮,৬৭৭ টনের তুলনায় বেশি। মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, চাষের শুরু থেকে শুকনো আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং কৃষকদের তীব্র যত্নের কারণে উৎপাদন বেড়েছে।
বাজার মূল্য ও কৃষকদের প্রতিক্রিয়া
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে পাটের মূল্য ৪,০০০ থেকে ৪,৩০০ টাকা প্রতি মণ, এবং কিছু ক্ষেত্রে মূল্য ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। রাজশাহী জেলা পাট বিভাগের সহকারী পরিচালক নাদিম আখতার বলেছেন, এই বছর জেলায় প্রায় ৩,৮১,৬৯৬ কুইন্টাল পাট উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২১,০০০ কুইন্টাল বেশি। কৃষকরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ডাঃ রাফিকুল ইসলাম বলেছেন, পাট উৎপাদন ও মূল্য বৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত পাঠিয়েছে। তিনি বলেছেন, পাট সম্পর্কিত লেনদেন থেকে প্রাপ্ত আনুমানিক ৫৪৯ কোটি টাকা স্থানীয় বাজারে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা বৃদ্ধি করবে এবং গ্রামীণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে উত্সাহিত করবে।
তবে, তিনি উল্লেখ করেছেন যে কৃষকরা পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের প্রভাব কমানো এবং সরাসরি বিপণন ও সরকার সমর্থিত স্টোরেজ সুবিধা বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ।







































