রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা থলে আদা চাষের মাধ্যমে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে সাফল্য অর্জন করেছেন যা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই সহজ ও স্বল্প খরচের পদ্ধতিতে মাটি ও জৈব সারে ভরা থলে আদার কিঁড়ো লাগানো হয়। থলগুলো গাছের নীচে, বাগানে বা ছায়াযুক্ত অব্যবহৃত জায়গায় রাখা হয় যা জমির অপচয় কমায় এবং বন্যা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
সাফল্যের গল্প
মিঠাপুকুর উপজেলার মোয়েনপুর গ্রামের কৃষক মোঃ শাহিনুল ইসলাম বকুল থলে আদা চাষের একজন পথিকৃৎ। তিনি বারি-২ এবং থাই জাতের আদা চাষ করে দেশের মশলা উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা এবং বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার স্ত্রী ও স্কুল শিক্ষিকা মুক্তা খাতুন বীজ, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, হিসাব রাখা, দৈনিক শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের মতো কাজে সহায়তা করেন।
বকুল হারিভাঙ্গা আম বাগানের ফাল্টু জমিতে আদা চাষের চিন্তা করেছিলেন। তিনি যখন হারিভাঙ্গা আম বাগানে আদা চাষের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন তৎকালীন ডেপুটি ডিরেক্টর ডাঃ মোঃ আবু সায়েম তাকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসেন। বকুল তার প্রদর্শনী প্লটে ৫০০ থলা এবং হারিভাঙ্গা আম বাগানে ১২,০০০ থলা আদা চাষ শুরু করেন।
গত বছর ফসল কাটার পর বকুল ১৬,০০০ থলা থেকে ১১৫ মাউন্ড (প্রতি ৪০ কেজি এক মাউন্ড) আদা পেয়েছিলেন। বর্তমান মৌসুমে তিনি ৮০ ডেসিমাল জমিতে ১৮,০০০ থলা আদা চাষ করছেন। বকুলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ৩৫০ এর বেশি গ্রামবাসী এই মৌসুমে মোয়েনপুর গ্রাম এবং আশেপাশের অঞ্চলে ৪০,০০০ থলায় আদা চাষ করছেন।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
গত বছর আদার দাম ৪০০ টাকা প্রতি কেজি ছিল যা পরে ১০০ টাকা এবং ১৩০ টাকায় নেমে আসে কারণ আদার সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। বকুল বলেছেন, যদি আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা যেমন কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা হয় এবং হারিভাঙ্গা আম বাগান ও বাড়িঘরের সমস্ত জমি থলে আদা চাষের অধীনে আনা হয় তবে স্বনির্ভর আদা উৎপাদন সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের (ডিএই) রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, থলে আদা চাষ বৃদ্ধি করে আদা উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা যাবে। তিনি যোগ করেছেন, কৃষকদের তাদের উৎপাদিত আদা সংরক্ষণ করে ভাল মূল্য পাওয়ার জন্য যথেষ্ট সুবিধা প্রদান করা উচিত।






























