কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দৈনিক বেশ কয়েক হাজার কেজি প্লাস্টিকের বর্জ্য জমা হচ্ছে, যা পরিবেশ এবং সমুদ্রজীবনের জন্য বিপজ্জনক। পরিষ্কারকারী কর্মীরা প্রতিদিন ৬০ কেজি প্লাস্টিকের বোতল, ৫০০০ টি কাপ ও মাস্ক এবং একটি ট্রাক ভর্তি চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট এবং নানা ধরনের প্লাস্টিক সংগ্রহ করে থাকে।
প্লাস্টিক দূষণের ফল:
প্লাস্টিক দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। প্লাস্টিক মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে সমুদ্রের মাছ ও অন্যান্য সমুদ্রজীবের খাদ্য হিসেবে ভুলবুঝাবস্থায় গ্রহণ করে। এই মাছ যখন মানুষের খাদ্য শৃঙ্খলে যোগ হয়, তখন মানুষের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ কাজী মোঃ বরকত আলী বলেছেন, ‘পর্যটকরা সৈকতে অবিচারিতভাবে প্লাস্টিক ছোড়ে দিচ্ছে। এই প্লাস্টিকগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ধারণ করে এবং অবশেষে সমুদ্রে চলে যায়। ফলে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে এবং নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব হচ্ছে।’
প্লাস্টিক দূষণের কারণে বঙ্গোপসাগরের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উপর বিপর্যয়কর প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে যদি প্লাস্টিক দূষণ বৃদ্ধি পায় তাহলে পরিবেশের অবনতি হবে, পর্যটকরা আসা বন্ধ করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পরিবেশ সংরক্ষকরা বলেছেন যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস করা দরকার, সৈকতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে, যথাযথ বর্জ্য পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে, নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং পর্যটকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে হবে।
কক্সবাজারের ডেপুটি কমিশনার মোঃ আ. মান্নান বলেছেন যে সৈকত পরিষ্কার রাখতে বিভিন্ন এনজিও এবং স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে এবং সচেতনতা অভিযান চালানো হচ্ছে।






























