রাজশাহীর পবায় বুধবার শোখের হারি (আলংকারিক মাটির পাত্র) নিয়ে এক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উত্থাপিত হয়েছে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের অভাবের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পটি রক্ষা ও প্রচারের উপায়।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ শোখের হারি
মাছ, পাখি, পদ্ম ও কাঁটার রঙিন চিত্র দিয়ে সজ্জিত শোখের হারি বাংলার গ্রামীণ জীবন ও লোকসংস্কৃতি প্রতিফলিত করে। পবায় বাসন্তপুর ও উলাপুরের কুমোরদের দ্বারা উৎপাদিত এই স্বতন্ত্র মাটির পাত্রটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা
পাবা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ লোকশিল্প ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে 'মৃৎশিল্প ও শোখের হারির ঐতিহ্য, সমস্যা এবং সম্ভাবনা' বিষয়ক কর্মশালা ও নকশা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
পাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদিন বলেন, জাতির পরিচয় রক্ষা হয় তার লোকসংস্কৃতি, শিল্প এবং ঐতিহ্যের মাধ্যমে। শোখের হারি পাবার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অঙ্গাংশ। তিনি সরকার, প্রশাসন ও সমাজের যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক উদয় শঙ্কর বিশ্বাস বলেন, মৃৎশিল্পের সঙ্কট কেবলমাত্র কুমোরদের সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। কাদা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে কুমোরদের ওপর চাপ বাড়ছে, তাই ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সরকারি উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন।
শোখের হারির নকশা ও গুণমান উন্নয়ন, বাজার প্রসার, আধুনিক নকশা চালু করে পণ্য বৈচিত্র্য এবং তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কাঁচামালের সহজ প্রাপ্যতা, সরকারি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক নকশা এবং কার্যকর বিপণনের মাধ্যমে পবায় মৃৎশিল্প শিল্প বর্তমান চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারবে।






























