জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছে যে, এল নিনো আবহাওয়ার ঘটনাটি আগামী মাসগুলোতে 'অত্যন্ত শক্তিশালী' হয়ে উঠবে এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, 'এল নিনো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং আগামী মাসগুলোতে এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ঘটনায় পরিণত হবে, যার বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার নিদর্শনে বড় প্রভাব এবং বন্যার, খরা এবং চরম তাপের ঝুঁকি থাকবে।'
এল নিনো কী?
এল নিনো হল একটি আবহাওয়ার ঘটনা যা প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় অংশে অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ জলের কারণে সৃষ্ট। এটি আবহাওয়ার নিদর্শনগুলিকে বিশ্বজুড়ে প্রভাবিত করে, যার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, খরা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা দেখা দিতে পারে।
এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া এবং জলবায়ুকে নাটকীয়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে, অস্ট্রেলিয়ায় খরার কারণ হতে পারে এবং দক্ষিণ আমেরিকার অংশগুলিতে চরম তাপ এবং বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটাতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কী তাৎপর্য?
এল নিনো বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে। দেশটি প্রায়শই এল নিনোর সময় খরার মুখোমুখি হয়, যা ফসলের উৎপাদনকে হ্রাস করতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া, এল নিনোর কারণে বন্যা এবং ঝড়ের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা জীবন এবং সম্পত্তির ক্ষতি করতে পারে।
জাতিসংঘের সতর্কতার মানে হল যে, সরকার এবং জনসাধারণকে এল নিনোর প্রভাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা থেকে সম্প্রদায়গুলিকে রক্ষা করতে কৃষিক্ষেত্রে অভিযোজন কৌশলগুলি গ্রহণ করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।




