চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানায় ২০১৯ সালে ৪৩০০ টি যাবা ট্যাবলেট উদ্ধারের পর মাদক পাচারের অভিযোগে মোঃ শফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন সেশন্স জজ আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা জরিমানার অতিরিক্ত বিকল্পও রয়েছে। আরেক অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামকে খালাস করা হয়েছে। বিচারক মোঃ তাজুল ইসলাম আজ এ রায় দিয়েছেন।
৪৬ বছর বয়সী মোঃ শফিকুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম আব্দুল শেখের পুত্র। ২০১৯ সালের ৭ জুলাই রাত ১১:৪০ মিনিটে কর্ণফুলী সিএনজি এন্ড ফিলিং স্টেশনের সামনে মোয়িজারতেক মোড় এলাকায় এক হানাদারির সময় শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে বেটনোভেট ক্রিমের ১০ টিউবের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ৪৩০০ টি যাবা ট্যাবলেট পুলিশ পায়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে শফিকুল বলেছিলেন যে তিনি মনিরুল ইসলাম থেকে যাবা ট্যাবলেট কিনেছিলেন। তারপর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। আটজন সাক্ষীর মধ্যে পাঁচজনের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়েছিল কোর্ট বেঞ্চের সহকারী এসএম কাউসার সাগরের তত্ত্বাবধানে। প্রমাণ মূল্যায়নের পর আদালত শফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
বাংলাদেশে মাদক পাচার একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাবা ট্যাবলেটের ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মাদক পাচারকারীরা বিভিন্ন উপায়ে এই মাদক পদার্থ পাচার করে। মাদক দমন কমিটি এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ সরকার কঠোর আইন এবং নীতি গ্রহণ করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, মাদক পাচারের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। এই ধরনের রায় মাদক পাচারকারীদের জন্য একটি কঠোর সংকেত হিসাবে কাজ করে।
সমাজের উপর মাদকের প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। মাদক পাচার শুধুমাত্র অপরাধীদের জন্য নয়, বরং পরিবার, সম্প্রদায় এবং দেশের জন্যও বিপর্যয় সৃষ্টি করে। তাই মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।















