১৯২৬ সালের রাজনৈতিক অস্থির পরিবেশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গাজীপুরের জয়দেবপুরে সোয়ারাজ পার্টির প্রার্থী হিসেবে বাংলা আইন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারের জন্য পরিদর্শন করেছিলেন। নজরুল সংরক্ষিত মুসলিম আসনের জন্য প্রার্থী হয়েছিলেন, যা অবিভক্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও বরিশালের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল আসন ছিল। ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত পূর্ব বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে তিনি প্রচার করেছিলেন।
নজরুল গাজীপুর পরিদর্শনের সময় রাজবাড়ী পরগনার অংশ হিসেবে তৎকালীন বহাল রাজার ডাক বাংলোতে রাত্রি যাপন করেছিলেন। নির্বাচনের সময় ঢাকার ৫২ বেচারাম দেউরিতে অবস্থান করতেন তিনি। ১ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বরের মধ্যে কোনও এক সময় তিনি গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহের দিকে গমন করেছিলেন।
কবিতার জন্ম
গাজীপুর পরিদর্শনের সময় নজরুল রেলগাড়িতে চড়ে চাঁদনী রাতে জয়দেবপুরের পথে ভ্রমণ করেছিলেন। এই ভ্রমণের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত কবিতা 'চাঁদনী রাতে' রচিত হয়েছিল, যার মূল নাম 'জয়দেবপুরের পথে'। নজরুলের সঙ্গী ও বিখ্যাত কবি আব্দুল কাদির লিখেছেন যে, নজরুল জয়দেবপুরে ভোটের প্রচার করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু চাঁদের আলোয় ভরপুর রাতে তার মনে শুধুমাত্র প্রকৃতির সৌন্দর্যের অসীম রূপকল্প জাগিয়েছিল।
ডাঃ ফারিদ আহমেদের বই 'গাজীপুর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য' অনুসারে, এই অমর কবিতাটি নজরুলের প্রসিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ 'সিন্ধু-হিন্দোল'-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ৩৬ লাইনের এই কবিতায় সাত-আটটি মননযোগ্য শব্দ ব্যবহার করে তিনি সমসাময়িক জয়দেবপুরের শান্ত, নির্মল ও চিত্রসুন্দর পরিবেশ তুলে ধরেছেন।
স্মৃতি ও মূল্যবান উত্তরাধিকার
গাজীপুরের অধিবাসীদের কাছে নজরুলের এই ঐতিহাসিক পরিদর্শন একটি গর্বের বিষয়। জাতীয় কবির স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা ও ঐতিহাসিকরা বহাল রাজার ডাক বাংলোর স্থান চিহ্নিত করে একটি স্মারক ফলক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আরও দাবি করেছেন যে, 'জয়দেবপুরের পথে' কবিতাটি জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
বিদ্রোহী কবি স্মৃতি সংসদের বর্তমান চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বিপ্লব বলেছেন, 'এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে গাজীপুরে কোনও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। নতুন প্রজন্মকে গাজীপুরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত করানোর জন্য আমরা সরকারকে আবেদন জানিয়েছি।'




























