জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অভিলাষা পূরণের জন্য একটি দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতীক। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উত্থানের গল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন, মানুষের অধিকারের জন্য আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
উপাচার্য বলেছেন, খালেদা জিয়া একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কর্মজীবনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেননি, বরং একটি অপ্রত্যাশিত এবং ব্যথাদায়ক জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার পর তার জীবনে একটি গভীর পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি ব্যক্তিগত শোক ও জাতীয় রাজনৈতিক সঙ্কট উভয়কেই পরাস্ত করেন।
অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেছেন, খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন হন, যখন বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক শাসন এবং রাজনৈতিক অধিকারের বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার ভূমিকা বিএনপি নেতা হিসেবেই নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
উপাচার্য বলেছেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে রূপান্তর এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেছেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত নয়, বরং রাজনৈতিক বিপর্যয় এবং ব্যক্তিগত সঙ্কটের মুখোমুখি হওয়ার সময় রাজনৈতিক বিশ্বাস বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: খালেদা জিয়া রাজনীতিতে কীভাবে এসেছিলেন? উত্তর: অপ্রত্যাশিত এবং ব্যথাদায়ক জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার পর।
প্রশ্ন: খালেদা জিয়া কোন দলের সাথে যুক্ত ছিলেন? উত্তর: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
প্রশ্ন: খালেদা জিয়া কী ভূমিকা পালন করেছেন? উত্তর: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে এবং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।






































