মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানির চরম-ডানপন্থী দল 'অলটারনেটিভ ফর জার্মানি' (এএফডি) এর রাজ্য নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত বিজয়ের পর তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে 'বাহ! জার্মানির পপুলিস্ট পার্টির বড় বিজয়' বলে পোস্ট করেছেন। তিনি জার্মানির অভিবাসন নিয়মকানুনের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন।
ট্রাম্পের এই উদযাপনমূলক পোস্টটি এএফডি রাজ্য নির্বাচনে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়ার দুই দিন পরে এসেছে। এএফডি অভিবাসন বিরোধী, রাশিয়াপন্থী এবং ট্রাম্প-সমর্থক দল। তারা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে 'পুনর্বাসন ও নির্বাসন আক্রমণ' শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার একটি চরম-ডানপন্থী দল জার্মানির রাজ্যের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনায় অনেক অভিবাসী এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছে। জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এএফডিকে 'ডানপন্থী চরমপন্থী' দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এএফডির নির্বাচনী প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ডের কর্মীরা একটি নিষিদ্ধ নিও-নাৎসি সংগঠনের প্রাক্তন সদস্য হিসেবে পরিচিত।
ট্রাম্পের সমর্থকরা এএফডির বিজয় উদযাপন করেছে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড গ্রেনেল ফলাফলকে 'জার্মানিতে এক নতুন দিন' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। টেক বিলিয়নিয়ার এলন মাস্ক এএফডির বিজয় উদযাপন করে বলেছেন, 'সুন্দর কাজ করেছেন!'
'তারা উঠছে, এবং এটা আর চলবে না! এমজিজিএ!!', ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, যা তার 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' প্ল্যাটফর্মের জার্মান ভেরিয়েন্ট।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
এএফডি জার্মানির একটি চরম-ডানপন্থী রাজনৈতিক দল যা ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দলটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরোধিতা, অভিবাসন বিরোধী নীতি এবং জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের জন্য পরিচিত। এএফডি বিভিন্ন রাজ্য নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং বর্তমানে জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্ট বা বুন্ডেসট্যাগে ৯৪টি আসন রয়েছে।
এএফডির বিজয় জার্মানির রাজনৈতিক দৃশ্যে একটি নতুন মোড় নির্দেশ করেছে। দলটির অভিবাসন বিরোধী নীতি এবং জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ অনেক জার্মানদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এই বিজয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জার্মানির রাজ্যে একটি চরম-ডানপন্থী দলের প্রথম বিজয়।































