প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান রাষ্ট্রমন্ত্রী এমদাদুল হক নুরুল হক বলেছেন, সরকার বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে তীব্র কাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে সরকার প্রাধান্য দিচ্ছে।
জাতীয় সংসদে বিএনপি সংসদ সদস্য এম মবারক আলম ভূইয়ানের জরুরি নোটিশের জবাবে রাষ্ট্রমন্ত্রী এই কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল পদে ছিলেন।
প্রবাসীদের 'বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর' বলে অভিহিত করে রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাই প্রবাসীদের সুরক্ষা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ২৭টি দেশে ৩০টি শ্রম কল্যাণ শাখা বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের সেবা প্রদান করছে। এছাড়া ১১টি দেশের ১৩টি কনস্যুলেট অফিসের মাধ্যমে ২২টি আইন সংস্থা অস্থির প্রবাসীদের আইনগত সহায়তা দিচ্ছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা এবং ওমানের মুসকাতে তিনটি সুরক্ষিত বাড়ি পরিচালনা করা হচ্ছে বাংলাদেশি মহিলা শ্রমিকদের সহায়তায়। কেলেঙ্কারি, নির্যাতন বা অন্যান্য অন্যায়ের শিকার প্রবাসী শ্রমিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মধ্যস্থতা সহ আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রায় ৪,০০০ টি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সরকার কূটনৈতিক পথে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।
রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করে সরকার বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বাধিক সহায়তা প্রদান করতে কাজ করছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড বৈদেশিক শ্রমিক ট্রেনিং ব্যুরো (বিএমইটি) কার্ডধারী প্রবাসীদের কল্যাণমূলক সেবা প্রদান করছে।
বিদেশে অসুস্থ হলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য সরকার ৩,৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেয়। এছাড়াও প্রবাসীদের মেধাবী ছেলেমেয়েদের বৃত্তি, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা এবং বিদেশে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের দেহ প্রত্যাহার ও শেষকৃত্যে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
সরকার বেকার যুবকদের চাকরি সৃষ্টি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতেও কাজ করছে। অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে।
নুরুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত শ্রম বাজারের বাইরে সাদাকলার চাকরির সুযোগ সৃষ্টির জোর দিয়েছেন। তাই বিদেশে বাংলাদেশি মিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সাথে অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে শ্রমবাজারের চাহিদা ম্যাপিং করা হচ্ছে।
বিভিন্ন দেশের চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশের কর্মশক্তি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বলে রাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।
































