অর্থমন্ত্রী আমির খোসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বলেছেন, সরকার বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ সংস্থা গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করা হচ্ছে, যা অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সংসদীয় বক্তব্য
অর্থমন্ত্রী এই বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত একটি তারকাযুক্ত প্রশ্নের জবাবে বলেছেন। প্রশ্নটি করেছিলেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন।
অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছিল। এই অর্থ পাচার রোধ এবং উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি ১২ সদস্যবিশিষ্ট আন্তঃসংস্থা টাস্ক ফোর্স গঠিত হয়েছে। এছাড়াও, মানি লন্ডারিং প্রিভেনশন অ্যাক্ট, ২০১২ এর আওতায় ১১টি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ১১টি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত মামলায় মোট ৭৬,৯৮৩.৯৩ কোটি টাকার সম্পদ দেশে এবং বিদেশে আদালত কর্তৃক আটক এবং জমা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ২৩টি মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টেন্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৪২টি মামলা এ পর্যন্ত দায়ের করা হয়েছে, ১৬টি মামলায় চার্জ শিট দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দশটি দেশের সাথে মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্টেন্স ট্রিটি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে। মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীনের সাথে এমএলএটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর অধীনে স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন গঠিত হয়েছে। সরকার বিদেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে পরামর্শ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।




























