ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ রাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ এম এ মুহিত। তিনি জাতীয় সংসদের জেনারেল ওসমানী গেটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। রাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে আগামী এক দুই দিনের মধ্যে জাতীয় আন্দোলন শুরু হবে।
রাজধানীর অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে দেওয়া হবে বিশেষ গুরুত্ব
রাজধানীর অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে কাজ করতে শ্রমিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকার কারণে সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান মুহিত। তিনি অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও স্বতন্ত্র বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং মশার প্রজনন রোধে ব্যক্তিগত দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
মুহিত জানান, ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগ শুধুমাত্র নজরদারির মাধ্যমে দূর করা যায় না। প্রতিটি নাগরিককে নিজের স্বাস্থ্যকর্মী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংক্রমণের হার আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ বা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এ কারণে সবাইকে তাদের বাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে।
হাসপাতালে প্রস্তুতি ও অতিরিক্ত ব্যবস্থা
হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান রাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে কোনও সঙ্কট না হয় তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে শয্যার অভাব নেই, তবে চাপ মোকাবেলায় সিভিল সার্জনদের সাথে আয়োজিত এক জুম মিটিংয়ে অতিরিক্ত শয্যা প্রস্তুত রাখতে এবং যথেষ্ট পরিমাণে স্যালাইন ও টেস্ট কিটের স্টক রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্ট্যান্ডার্ড ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট নিয়ে প্রায় ৩০০ চিকিৎসক রিফ্রেশার ট্রেনিং গ্রহণ করেছেন। হাসপাতালে মশার প্রসার রোধে যথেষ্ট পরিমাণে মশারি বিতরণ করা হচ্ছে এবং হাসপাতালের আশেপাশের জনবহুল অঞ্চলে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মুহিত জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর সাথে দুই মাস ধরে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে কাজ করছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও তীব্র করা হবে।
রাষ্ট্রমন্ত্রী মিডিয়াকে ডেঙ্গু বিরোধী বার্তা প্রচারে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষকে ভীত হওয়ার পরিবর্তে সতর্ক থাকা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।




































