বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করবে। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ইউনিসেফ মালদ্বীপ কর্তৃক আয়োজিত 'যুব ট্র্যাক টু সিওপি৩১' কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ডাঃ এম দ নাজমুল ইসলাম এই বিষয়টি জানান। মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও শক্তি মন্ত্রী আলি শরীফ অনুষ্ঠানে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জলবায়ু কর্মকাণ্ডে যুবকদের বেশি জড়িত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একই রকম ভঙ্গুরতার মুখোমুখি হচ্ছে।
ডাঃ নাজমুল বলেন, 'বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ উভয় দেশই জলবায়ু পরিবর্তনের সাধারণ ঝুঁকির মুখোমুখি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের অবনতি এবং বিভিন্ন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ উভয় দেশের মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।' তিনি বলেন, এই বাঁধার মধ্যেই ঢাকা ও মালে জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও ধৈর্য্য বৃদ্ধিতে তাদের অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু-ভুগ্ন ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থকে জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি দেশের মধ্যে জলবায়ু-ধৈর্য্য উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক বনায়ন, নীল অর্থনীতি এবং যুব-নেতৃত্বাধীন সবুজ উদ্যোগগুলোকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ যৌথভাবে কাজ করতে পারে এমন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ডাঃ নাজমুল বলেন, বাংলাদেশ মালদ্বীপের সাথে যৌথ ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু অর্থায়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশ আরও বেশি সহযোগিতা জোরদার করতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবেলায় নতুন পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা হিসেবে যুবকদের চিহ্নিত করে ডাঃ নাজমুল ইউনিসেফ মালদ্বীপকে 'যুব ট্র্যাক টু সিওপি৩১' উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মালদ্বীপ সরকার ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে মিলিতভাবে একটি বেশি ধৈর্য্যশীল, টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এই সহযোগিতার তাৎপর্য রয়েছে কারণ দুই দেশই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। জলবায়ু অভিযোজন ও ধৈর্য্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উভয় দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ প্রচেষ্টা দুই দেশের মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।































