নেপালের একটি পাহাড়ি অঞ্চলের হিমবাহ ধসে যাওয়ার কারণে নেপাল ও চীনে মারাত্মক বন্যা হয়েছিলো। এই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ছিলো বলে এক গবেষকের বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে। পাহাড়ি অঞ্চলটির তাপমাত্রা গত ৫৫ বছরের তুলনায় অনেক বেশি ছিলো। গবেষকরা এখনও এই ঘটনার সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি।
অস্বাভাবিক তাপমাত্রা
গবেষক রবার্ট রোহডের বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, ৫২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হিমবাহটিতে গত ২১ থেকে ২৬ আগস্টের মধ্যে গড় তাপমাত্রা প্রায় পাঁচ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছিলো। এই সময়কালে গত ৫৫ বছরের মধ্যে তাপমাত্রা কখনও ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হয়নি। রোহডের মতে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপ না থাকত, তাহলে এই রকম তাপমাত্রা পরিবেশ সম্ভবত কয়েক হাজার বছর পরেই দেখা যেত।
গবেষকদের মতামত
ফরাসি জলবায়ুবিদ ভ্যালেরি মাসন-ডেলমোটের মতে, এই রকম উষ্ণ পরিবেশে হিমবাহের তলদেশে বরফ গলে যায় এবং পাহাড়ি অঞ্চলগুলো অস্থির হয়ে যায়। ফরাসি জলবায়ুবিদ এটিয়েন বের্থিয়ের মতে, উষ্ণ পরিবেশে বরফ গলে পানির অতিরিক্ত প্রবাহ পাহাড়ের ফাটলে চলে যায়, যা ভূমিধসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। তবে গবেষকরা এখনও এই ঘটনার সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি।
গ্রেনোবল আলপস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিরূপবিদ ক্রিস্টেন কুকের মতে, উষ্ণ পরিবেশ হিমবাহ ধসে যাওয়ার সরাসরি কারণ হতে পারে না। তিনি বলেন, যদি উষ্ণ পরিবেশ কোনও ভূমিকা রাখে, তাহলে সেটি হিমবাহটি ভাঙার অবস্থানে পৌঁছানোর পরেই কাজ করেছে বলে মনে হয়। গবেষকরা এখন এই অঞ্চলের পূর্ববর্তী বছরগুলোয় ছোট ছোট ভূমিচ্যুতি এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজছেন।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ একটি নদী-নির্ভর দেশ, যেখানে হিমালয়ের হিমবাহ থেকে বহু নদীর উৎস। যদি হিমালয়ের হিমবাহগুলো ধসে পড়ে, তাহলে বাংলাদেশের নদীগুলোর জলপ্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহগুলো গলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


































