ছোট্ট তিসিবীজে থাকে প্রোটিন, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আঁশ ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। অনেকেই একে পুষ্টির ভান্ডার বলেন। শতাব্দী ধরে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে এটি স্বীকৃত। আবার চুলের যত্নেও তিসিবীজ বেশ আলোচিত।
তিসিবীজ চুলের জন্য কি উপকারী?
তিসিবীজ দুই ভাবে ব্যবহার করা যায়। তিসির তেল সরাসরি চুলে দিতে পারেন। আবার গুঁড়া করা তিসিবীজ খাবারের পদেও রাখা যায়। খাবার হোক বা বাহ্যিক ব্যবহার—অনেকের বিশ্বাস, এতে চুল লম্বা আর মজবুত হয়।
ঘন ও ঝলমলে চুল পেতে তিসিবীজের তেল, জেল কিংবা মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন অনেকেই। তিসিবীজ কি চুলের জন্য সত্যিই এতটা উপকারী?
কীভাবে কাজ করে তিসির তেল?
উদ্ভিজ্জ তেলগুলো চুলের কিউটিকেলকে সিল (আবরণ) করতে সাহায্য করে। এসব চুলের রুক্ষতা এবং ভেঙে যাওয়া রোধ করে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সামগ্রিক পুষ্টিগুণের কারণে অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেলের তুলনায় তিসির তেল বেশি উপকারী।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
চুলের মাস্ক হিসেবে তিসির তেল ব্যবহার করা যায়। এ জন্য হাতে অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে চুলে মালিশ করতে হবে। এরপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহারের আগে এটি ব্যবহার করা যায়। এ জন্য চুলে তিসির তেল লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। কন্ডিশনার ব্যবহারের ঠিক আগে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
তিসিবীজ দিয়ে জেলও তৈরি করা যায়। এই জেল শ্যাম্পু করার আগপর্যন্ত সারা দিন চুলে রেখে দিতে হবে।
পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট হিসেবে তিসির তেলের ক্যাপসুল পাওয়া যায়। তবে ক্যাপসুলের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। এ জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তিসিবীজ গুঁড়া করে খাওয়া যায়। ওটমিল, সালাদ এবং অন্যান্য দানাদার খাবারের সঙ্গে এটি খেতে পারেন।
তিসিবীজের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
তিসির তেল প্রাকৃতিক হলেও এর কিছু ঝুঁকি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। পেটফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যর মতো হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অপরিপক্ব বা আস্ত বীজ খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে। শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। গর্ভবস্থায় ভ্রূণের ক্ষতি করে। রক্ত পাতলা করার ওষুধ, কোলেস্টেরলের ওষুধ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। সরাসরি ত্বকে ব্যবহারে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
সারাংশে
তিসিবীজ ও তিসির তেল—দুটিই স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ্জ উপাদান। এটি প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় যোগ করা যেতে পারে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

















