মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে নতুন নেটফ্লিক্স তথ্যচিত্র সিরিজ 'মাইকেল জ্যাকসন: দ্য ভারডিক্ট' জটিল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তিন পর্বের এই সিরিজ ২০০৩ সালের বিচারপ্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে, যেখানে জ্যাকসনের বিরুদ্ধে এক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
আদালত ২০০৫ সালে জ্যাকসনকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছিল। তবে ডকুমেন্টারিটি দাবি করে না যে আদালতের রায় ভুল ছিল। বরং এটি দেখানোর চেষ্টা করে, বিচারপ্রক্রিয়ায় কী ঘটেছিল এবং কেন জ্যাকসন 'নট গিল্টি' বা নির্দোষ ঘোষিত হয়েছিলেন।
ডকুমেন্টারিটি বিচারকক্ষের নথি, সংবাদমাধ্যমের পুরোনো ফুটেজ, তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার এবং তৎকালীন সাংবাদিকদের বক্তব্য ব্যবহার করে। সেখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে আসে—প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ উপস্থাপনে যথেষ্ট দক্ষতা দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে জ্যাকসনের পক্ষে ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ আইনজীবীদের দল।
তথ্যচিত্রটি জর্ডান চ্যান্ডলার থেকে গ্যাভিন আরভিজো পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশেষ করে ১৯৯৩ সালে কিশোর জর্ডান চ্যান্ডলারের আনা অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেই মামলায় কখনো পূর্ণাঙ্গ বিচার হয়নি। পরবর্তী সময়ে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি শেষ হয়।
তথ্যচিত্রটি জুরি সদস্যদের বক্তব্য এবং জ্যাকসনের তারকাখ্যাতির প্রভাব নিয়েও আলোচনা করে। একজন সাবেক জুরি সদস্য স্মরণ করেন, আদালতে জ্যাকসন তাঁকে কীভাবে তাকিয়ে 'ধন্যবাদ' জানিয়েছিলেন। তাঁর কথাবার্তায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, জ্যাকসনের তারকাখ্যাতি বিচারপ্রক্রিয়ার পরিবেশকে প্রভাবিত করেছিল।
ডকুমেন্টারিটি 'লিভিং নেভারল্যান্ড'-এর কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে ওয়েব রবসনের প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। বিচার চলাকালে তিনি জ্যাকসনের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু বহু বছর পরে তিনি দাবি করেন, শৈশবে জ্যাকসনের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
মাইকেল জ্যাকসনের সংগীতের প্রভাব অস্বীকার করা অসম্ভব। তবে একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকেও পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। 'দ্য ভারডিক্ট' সেই অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় দর্শকদের।



















