ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশের অনলাইন জার্সির বাজার জমে উঠেছে। ফেসবুক পেজ, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ জুড়ে জার্সি কেনাবেচা চলছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তারপরেই রয়েছে ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা। বিক্রি হচ্ছে পর্তুগাল, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের জার্সিও।
জার্সি শপ বিডি নামের একটি অনলাইন দোকানের মালিক আজহারুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্বকাপ সামনে রেখে জার্সির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ৩০০–৩৫০টির বেশি জার্সি বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে অনলাইনে অনেক অর্ডার নিতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
প্রাচুর্য নামের একটি অনলাইন দোকানের মালিক মাহফুজ চৌধুরী জানান, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তাঁর বিক্রি হওয়া জার্সির ৭০–৮০ শতাংশই আর্জেন্টিনার। দারাজ, জার্জি, জার্সি ক্লাব বিডি, জার্সি ফ্রিক বিডি, ফ্যাব্রিলাইফসহ ডজনখানেক প্ল্যাটফর্মে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালের জার্সির চাহিদা বেশি বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
বৈশ্বিক বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল গ্রোথ ইনসাইটস’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্সির বাজারের আকার ৮৩৯ কোটি মার্কিন ডলারের হতে পারে। বাংলাদেশে এই শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুমান করে বলছেন, দেশে প্রতিটি বিশ্বকাপে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ৫০ থেকে ৮০ লাখ জার্সি বিক্রি হয়। গড় বিক্রয়মূল্য ধরলে দেশীয় বাজারের আকার দাঁড়ায় ৪০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার আশপাশে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফুটবল ও ফিফার লোগোসংবলিত জার্সি, টি-শার্ট ও হুডি মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৬৫ হাজার পোশাক, যার রপ্তানিমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশ রপ্তানি করছে সাধারণ ফ্যান জার্সি, অফিশিয়াল কিট নয়।
বাজারে মূলত তিন ধরনের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে। দেশীয় কারখানায় তৈরি সাধারণ মানের জার্সি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়। মাঝারি মানের ‘থাই প্রিমিয়াম’ জার্সির দাম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। আর প্লেয়ার এডিশন বা অথেনটিক মানের জার্সির দাম পড়ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে বেশির ভাগ জার্সি আসলে বিভিন্ন মানের অনুকরণ পণ্য—এডিডাস বা নাইকির লাইসেন্সপ্রাপ্ত অফিশিয়াল জার্সি নয়। এটি ক্রেতাদের অনেকেই জানেন, জেনেশুনেই কিনছেন। বাংলাদেশে বেশির ভাগ জার্সির কাপড় ও সুতা আমদানি হয় চীন থেকে, আর উৎপাদন ও সেলাইয়ের কাজ হয় দেশে, মূলত নারায়ণগঞ্জে।
অনলাইনে জার্সি কিনলে ঢাকার মধ্যে সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তা হাতে পাওয়া যায়। ঢাকার বাইরে জেলা শহরে পৌঁছতে তিন থেকে পাঁচ দিন লাগে। তবে চাহিদার চাপে কিছু প্রতিষ্ঠান সময়মতো সরবরাহ করতে পারছে না বলে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে। কিছু অনলাইন প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের ফোনকল ধরতেও হিমশিম খাচ্ছে।
সাইজ ভুল আসা, রঙে পার্থক্য এবং ছবিতে যা দেখানো হয় বাস্তবে তার মান কম— এই তিন অভিযোগ সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। আবার অর্ডার করে পাননি, এমন উদাহরণও রয়েছে। লক্ষ্মীপুরের আরমান হোসেন তাঁদের একজন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি পেজে জার্সির জন্য ছয় শ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলাম। জার্সি আসেনি, পেজও উধাও হয়ে গেছে।’






























