চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকাল আয়োজিত হবে। এটি বাংলাদেশের একটি বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগ প্রকল্প, যা শিল্পায়নের গতি বাড়াতে এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে বৃহৎ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানের সূচি অনুসারে, অতিথিদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ১১:৩০ টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিসিএল) চেয়ারম্যানের স্বাগত ভাষণের পর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপিত হবে।
অনুষ্ঠানে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন (সিআরবিসি) এর প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য, চীনের রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বিইজেডএ) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং দুই মন্ত্রী ভাষণ দেবেন।
অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ইসিএনইসি) সম্প্রতি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য একটি সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
বিইজেডএ দ্বারা বাস্তবায়িত হবে এই প্রকল্প। এটি জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত চলবে, মোট খরচ হবে ৪,১৮৯ কোটি টাকা।
এর মধ্যে ২,৪৬৭ কোটি টাকা বিদেশী অর্থায়ন থেকে এবং বাকি ১,৭২২ কোটি টাকা সরকার দিবে। বিদেশী অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের প্রাধান্যপূর্ণ ক্রেতার ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধা ব্যবহার করা হবে।
প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও সুবিধা
কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে সিইআইজেড স্থাপিত হবে। এটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরকার থেকে সরকারের (জি২জি) উদ্যোগের অংশ।
একবার চালু হলে, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি কমপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ১ লক্ষের বেশি সরাসরি এবং পরোক্ষ চাকরি সৃষ্টি করবে, রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে উৎসাহিত করবে এবং চট্টগ্রামকে আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক কেন্দ্রে পরিণত করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত সিইআইজেড বাংলাদেশের শিল্প প্রতিযোগিতায় উন্নতি এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।






























