প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা, গৌরব ও সমান সুযোগ নিশ্চিতের জন্য জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শ্রমিকরা শুধু শ্রম দিয়ে যায় না, তারা দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর কাজ করে। তাই তাদের জন্য উচিত মর্যাদাপূর্ণ মজুরি এবং নিরাপদ কর্মক্ষেত্র। মাহদী আমিন বলেছেন, শ্রমিকদের কল্যাণ মানে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভালো ভবিষ্যত নিশ্চিত করা।
প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকদের পেশাদার দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে উত্পাদনশীলতা বাড়ানো এবং আগামী প্রজন্মকে নতুন শিল্প ও মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার জন্য জোর দিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, 'ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ' ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প খাতের উন্নয়নে সরকার এগিয়ে যাবে। কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বিশ্বাস তৈরি করে এবং বিশ্বাস উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। মহিলা শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাহদী আমিন বলেছেন, চাকরির পরিমাণের পাশাপাশি গুণমানও গুরুত্বপূর্ণ। মানসম্পন্ন কাজ, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং শ্রমিকদের শ্রমের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ভালো শিক্ষা ও সুযোগ নিশ্চিত করাও শ্রমিকদের কল্যাণের অংশ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্জনে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে মাহদী আমিন বলেছেন, শ্রমিকরা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে বারবার রাস্তায় নেমেছে। তিনি দেশের শ্রমবাজারকে বিশ্ব অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার জন্য জোর দিয়েছেন।
মাহদী আমিন শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার এবং নারী শ্রমিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার জন্য জোর দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিআইএলএস) এর তিন দশকের অবদানের প্রশংসা করেছেন। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলো শ্রম খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ করছে।
সরকারের ফ্ল্যাগশিপ 'পরিবার কার্ড' প্রকল্প ইতিমধ্যে কাজকর্মী মহিলাদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে, যা সামাজিক মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে।



















