হামাস ইসরায়েলি মন্ত্রীদের গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অপসারণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে হস্তক্ষেপের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে অপসারণের ইসরায়েলি পরিকল্পনা অত্যন্ত বিপজ্জনক বিকাশ।
ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির বলেছেন, প্রথম বছরে গাজা থেকে ২৫০ হাজার ফিলিস্তিনি বের করে আনার পর পরবর্তী ছয় বছরে বাকি দুই মিলিয়ন বাসিন্দাকে অপসারণ করা হবে। তিনি এই বিবৃতি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের বিবৃতির পরে, যিনি বলেছেন যে ইসরায়েল সমুদ্র ও স্থল পথে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অপসারণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, 'আরব ও ইসলামিক দেশগুলো এই পরিকল্পনা প্রতিহত করতে গুরুতর ও একযোগে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। কার্যকর অবস্থান ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই পরিকল্পনা থামানো দরকার।'
অধিকৃত অঞ্চল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের বাধ্যতামূলক স্থানান্তরকে জেনেভা কনভেনশনের আওতায় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যা ইতিমধ্যে অক্টোবর ৭, ২০২৩-এ হামাসের নেতৃত্বে হামলা থেকে অভ্যন্তরীণভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত মারাত্মক হামলা ছিল।
ইসরায়েলি মন্ত্রীদের এই মন্তব্যগুলো অক্টোবর ২৭-এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে এসেছে, যেখানে জরিপ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জন্য নিবিড় প্রতিযোগিতা চলছে। তিনি তার মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত ডানপন্থী মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অপসারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং সেই ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে বিলাসবহুল রিসোর্টে পরিণত করার কথা বলেছিলেন। তবে মিশর সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ার পর তিনি পিছিয়ে গিয়েছেন। মিশর ইসরায়েল ছাড়া গাজার একমাত্র প্রতিবেশী দেশ।
এই ঘটনাবলির ফলে বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ও হস্তক্ষেপের গুরুত্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে স্বর তোলার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
























