মধ্যপ্রাচ্যে আবারও একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে এসেছে। ‘অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ’ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা চালানো বন্ধের কথা জানিয়েছে। গতকাল সোমবার হামলা বন্ধের এ তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের সঙ্গে লড়াই বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে ‘শক্তি দিয়ে’ জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘বর্তমানে এই ফ্রন্টের (ইরান) যুদ্ধ বন্ধ রয়েছে। কারণ, তেহরানের ‘‘সন্ত্রাসী’’ সরকার আঘাত পাওয়ার পর আমাদের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করেছে। সেই ‘‘সন্ত্রাসী’’ সরকার যদি আবারও আমাদের ওপর হামলা চালানোর ভুল করে, তবে আমরা শক্তি দিয়ে তার জবাব দেব।’
সম্প্রতি ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও এর জবাবে ইরানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের পাল্টা হামলা ছিল গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরাসরি সংঘাত। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা, যা এ উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।গতকাল তেহরানও আপাতত হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে ইসরায়েল যদি আবার ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তবে এর জবাব দেওয়া হবে বলে জানায় দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে হওয়া এ সমঝোতা খুবই ভঙ্গুর। যেকোনো মুহূর্তে একাধিক বিরোধপূর্ণ উৎস থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
গতকাল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহিত থাকবে। এ ইসলামপন্থী সশস্ত্র আন্দোলন যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তবে বৈরুতেও আঘাত করা হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির পরিবেশ তৈরি করতে লেবাননে হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।






























