ভারতের মানচিত্রের সর্বদক্ষিণে গ্রেট নিকোবর দ্বীপটি ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার (৯৯৪ মাইল) দূরে অবস্থিত। এটি মালাক্কা প্রণালির পশ্চিম প্রবেশপথের খুব কাছে। দ্বীপটি পূর্ব-পশ্চিম সমুদ্র বাণিজ্যপথের পাশেই অবস্থিত। এই পথ দিয়েই পারস্য উপসাগর, ইউরোপ এবং চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহ চলে।
ভারতের পরিকল্পনা
মোদি সরকার দ্বীপটিতে একটি পণ্য খালাসের বন্দর (ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট), একটি বেসামরিক-সামরিক বিমানবন্দর, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, পর্যটন অবকাঠামো এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের বসবাসের জন্য একটি জনপদ গড়ে তোলার অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের দাবি, সামুদ্রিক বাণিজ্যের অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে এতে এত বিপুল টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
পরিবেশগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ
গ্রেট নিকোবর দ্বীপের গভীর অরণ্যে কয়েক শ ‘শম্পেন’ জনগোষ্ঠীর মানুষ বাস করেন। যাযাবর প্রকৃতির এই জাতি মূলত শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। এ ছাড়া চমৎকার এই বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভর করে জীবনধারণ করেন মাছশিকারি কয়েক হাজার নিকোবরি আদিবাসী। সরকারের প্রকল্পটি বর্তমানে ১৬৬ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার জমির ওপর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা পুরো দ্বীপের প্রায় ১৬ শতাংশ। এই জমির প্রায় অর্ধেক আদিবাসীদের সংরক্ষিত এলাকায় পড়েছে, যেখানে শম্পেনরা বসবাস করে।



















