মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনারা এক অস্থির সময় পার করছেন। মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বিভিন্ন বন্দর অবরোধ করে রেখেছে। ফলে প্রায় কয়েক দিন পরপর ইরানি বাহিনীর সঙ্গে মার্কিন সেনাদের গুলিবিনিময় হচ্ছে।
দেশের ভেতরে পেন্টাগন এখন ফুরিয়ে আসা গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে বিদেশে মোতায়েন সেনাদের পরিবারের সদস্যরা এক চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
গত এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধটি এখন এক দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে রেখেছে।
ট্রাম্পও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও ইরানে পূর্ণ মাত্রায় বোমা হামলা শুরু করা হবে। এই হুমকির কারণে মার্কিন সেনাদের সব সময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক কমান্ডার জোসেফ ভোটেল বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘আমাদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সময়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সেনাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা কোনো ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ নয়।
এই সংঘাতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তাঁদের অনেকের মাথায় গুরুতর চোট রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি সদস্য আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
চলমান সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমে গেছে। মে মাসে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন উত্তরদাতার মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন, ইরানে এই সামরিক অভিযানের সার্থকতা আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করছে। তবে কোনো চুক্তি হলেও সেটি কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে।



















