অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের শাসক সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগ (এএফএল) খেলোয়াড়দের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় যোগাযোগমূলক প্রশিক্ষণের সীমা নির্ধারণ করেছে। মস্তিষ্কের আঘাত কমাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। শক্তিশালী সংঘর্ষ, ধরাপড়া এবং উঁচু থেকে জাম্প করে বল ধরা অস্ট্রেলিয়ান রুলসের বৈশিষ্ট্য, যা খেলোয়াড়দের মস্তিষ্কের আঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
মস্তিষ্কের আঘাতের ঝুঁকি কমানোর নতুন নিয়ম
এএফএলের নতুন নিয়ম অনুসারে, ২০২৭ থেকে প্রতিটি ক্লাব প্রি-সিজনের প্রথম মাসে সপ্তাহে ১২০ মিনিট যোগাযোগমূলক প্রশিক্ষণ করতে পারবে, যার মধ্যে মাত্র এক ঘণ্টা হবে উচ্চ-তীব্রতার যোগাযোগমূলক কাজ। প্রি-সিজনের পঞ্চম সপ্তাহ থেকে কিক-অফ পর্যন্ত, সীমা বৃদ্ধি পেয়ে যাবে ১৬০ মিনিট এবং ১২০ মিনিটে। ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের দুই দিন ধরে উচ্চ-তীব্রতার যোগাযোগমূলক প্রশিক্ষণ দিতে পারবে না এবং এএফএলের অনুরোধে ভিডিও প্রমাণ প্রদান করতে হবে।
পটভূমি এবং প্রভাব
এই নিয়ম চালু করার আগে ক্লাব ফুটবল বস, কোচ, চিকিৎসা কর্মী এবং খেলোয়াড়দের সাথে দুই বছর ধরে পরামর্শ করা হয়েছিল। ফলাফল দেখায় যে ম্যাচ সিমুলেশন এবং ছোট দলের উচ্চ-তীব্রতার ড্রিলগুলোতে সবচেয়ে বেশি মস্তিষ্কের আঘাত হয়। এএফএলের স্বাস্থ্য ও ফুটবল অপারেশনের এক্সিকিউটিভ জেনারেল ম্যানেজার লরা কেন বলেছেন, 'খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ এএফএলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা মস্তিষ্কের আঘাতের ঝুঁকি স্বীকার করি, যা বিশ্বের সব যোগাযোগমূলক খেলায় রয়েছে।'
এই নিয়মের ফলে খেলোয়াড়দের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করা আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে বারবার মস্তিষ্কের আঘাতের কারণে অবসর নেয়া খেলোয়াড়দের জন্য। এএফএলের বিরুদ্ধে একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলা চলছে, যা এই নিয়ম পরিবর্তনের জন্য আরও চাপ দিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
যদিও অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল বাংলাদেশে জনপ্রিয় নয়, তবুও এই পদক্ষেপ খেলাধুলায় মস্তিষ্কের আঘাত প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরে। খেলাধুলায় খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ রক্ষার জন্য নিয়ম পরিবর্তন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

































