ইরানের কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তারা অধিক ভোক্তাদের জন্য পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি করছে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন যে, তৃতীয় স্তরের জন্য পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ হয়ে ১০,০০০ টোমান (প্রায় ৪.৫ মার্কিন সেন্ট) হবে।
ইরানের কোটা সিস্টেমে পেট্রোলের দাম তিন স্তরে নির্ধারিত - প্রথম ৬০ লিটারের জন্য ১,৫০০ টোমান, পরবর্তী ৫০ লিটারের জন্য ৩,০০০ টোমান এবং তার পরে ৫,০০০ টোমান। মোহাজেরানি বলেছেন যে, তৃতীয় স্তরের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের অর্থনীতি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার জন্য নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করেছে। ২০১৮ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে, যা ইরানের অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে। ইরানের মুদ্রার মূল্য হ্রাস পেয়েছে, যা অর্থনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলিতে একটি নৌ অবরোধ চালু করেছে, যাতে তার তেল রফতানি শূন্যে নামানো যায়। এই পদক্ষেপগুলি ইরানের অর্থনৈতিক চাপকে আরও বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে ইরান সরকার পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের পেট্রোল দাম বৃদ্ধির প্রভাব
ইরানে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি করা একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়, কারণ দেশটি বিশ্বের সস্তা জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎপাদক। বছরের পর বছর ধরে ইরান সরকার পেট্রোলকে ভারীভাবে সহায়তা করে আসছে, যা দাম পরিবর্তনের রাজনৈতিক চাপকে আরও বৃদ্ধি করে।
ইরানের মুদ্রার মূল্য হ্রাস এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের জনসাধারণের জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি এই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।




























