খুলনায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিয়ম (আইএইচআর-২০০৫) বাস্তবায়নে বহু-ক্ষেত্রীয় সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আজ এক আদায় মিটিংয়ে এ দাবি জানানো হয়। মিটিংয়ে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব বুঝে উঠেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
মিটিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হারুন বলেন, ২১ বছর পরেও বাংলাদেশ আইএইচআর বাস্তবায়নের সচেতনতা পর্যায়ে রয়েছে যা দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, সাধারণতঃ জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলো শুধুমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়। তবে মহামারী সৃষ্টিকারী রোগ প্রতিরোধের জন্য সমস্ত সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের দ্বারা সমন্বিত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাংলাদেশের কাছে প্রয়োজনীয় আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে, তবে বাস্তবায়ন অপর্যাপ্ত। তিনি বিভিন্ন সংস্থার ফোকাল পয়েন্ট অফিসারদের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সীমান্ত পার হওয়া সংক্রামক রোগগুলো মোকাবিলার জন্য জোর দেন। তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা বিচ্ছিন্ন থাকতে পারি না। সমস্ত ফোকাল পয়েন্ট জাতীয় জনস্বাস্থ্য হুমকির বিরুদ্ধে জাতীয় প্রস্তুতি গড়ে তোলার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
আইএইচআর-এর লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয়তা
মিটিংয়ে বলা হয়, মহামারী ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা আইএইচআর (২০০৫)-এর প্রাথমিক লক্ষ্য। এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যার অধীনে ১৯৬টি সদস্য রাষ্ট্র, বাংলাদেশ সহ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ এবং প্রতিক্রিয়া জন্য প্রয়োজনীয় মূল ক্ষমতা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আইএইচআর অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সমুদ্র বন্দর, স্থল বন্দর এবং বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, চিকিৎসা কর্মী এবং মনোনীত হাসপাতাল নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনও সন্দেহজনক জনস্বাস্থ্য ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মনোনীত ফোকাল পয়েন্টে রিপোর্ট করতে হবে।
সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের গুরুত্ব
মিটিংয়ে জোর দেওয়া হয় জনস্বাস্থ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দায়ী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের গুরুত্বের উপর। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
মিটিংয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের খুলনা সেক্টরের ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্ণেল অনুপ কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি শেখ জাইনুদ্দীন, স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর ডাঃ আশনাফুন নাহার, খুলনা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ডিরেক্টর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং আনসার ও ভিডিপির ডেপুটি ডিরেক্টর এএসএম আজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
মিটিংয়ের আয়োজন
মিটিংটি খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী ডিরেক্টর ডাঃ অপর্ণা বিশ্বাসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লুএইচও) টেকনিক্যাল অফিসার ডাঃ ইনিন ইসিবর মূল বক্তব্য দেন। বিভিন্ন সরকারি বিভাগ এবং এনজিও প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।






























