সরকার দেশের স্বাস্থ্য খাতের ব্যবধান চিহ্নিত করে তা মেটাতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডাঃ জুবায়দা রহমান। তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে তরুণদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে তরুণদের উন্নয়নের জোর
ডাঃ জুবায়দা রাজধানীর গুলশানের এক হোটেলে 'বাংলাদেশে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ' শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থায় বিদ্যমান ও আবির্ভাব হওয়া চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় তরুণদের স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, 'আমরা তরুণদের প্রশিক্ষণ ও উপদেষ্টা সুযোগ প্রদান করতে পারি যাতে তারা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলো বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারে। এ জন্য তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, গবেষক, সামাজিক ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।'
উদ্ভাবনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমি গুরুত্বপূর্ণ
ডাঃ জুবায়দা উদ্ভাবন পোষণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন এক পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে ছাত্ররা ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে শেখবে এবং শিক্ষকরা বিভিন্ন শাখার মধ্যে সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, 'আমাদের নতুন প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে হবে এবং তাদেরকে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।'
স্বাস্থ্য উদ্যোগের মানসম্মত সংজ্ঞা
ডাঃ জুবায়দা বলেন, স্বাস্থ্য উদ্যোগ কেবলমাত্র ব্যবসা শুরু করা বা স্বাস্থ্য পরিষেবা বাণিজ্যিকীকরণ নয়, বরং অভিনবত্ব, প্রমাণ এবং শৃঙ্খলা ব্যবহার করে বাস্তব জীবনের স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করা।
স্বাস্থ্য পরিষেবার আর্থিক বোঝা কমানোর জন্য কাজ করছে সরকার
স্বাস্থ্য পরিষেবার আর্থিক বোঝা কমানোর জন্য সরকার কাজ করছে বলে ডাঃ জুবায়দা জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষের নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি স্বাস্থ্য পরিষেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। তবে স্বাস্থ্য খাতে বছরের পর বছর অবহেলা এবং দায়িত্বশীলতার অভাব সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা বৃদ্ধি করেছে। আমরা এখন সমস্ত মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি এবং প্রতিটি পরিবারের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা উপলব্ধ করা আমাদের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে একটি।'
নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ
ডাঃ জুবায়দা বলেন, বাংলাদেশ নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে অ-সংক্রামক রোগের প্রচলন বৃদ্ধি, বয়স্ক জনসংখ্যা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং দ্রুত শহরায়ন।
তিনি বলেন, 'এই চ্যালেঞ্জগুলো কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের মাধ্যমে সমাধান করা যাবে না। এর জন্য নতুন চিন্তাভাবনা এবং শক্তিশালী অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।'
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খোসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার এমডি সখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডাঃ এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দারও বক্তব্য রাখেন।






























