দক্ষিণ কোরিয়ায় অনলাইন মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। এই আইনের ফলে পুনরাবৃত্তি অপরাধীদের জন্য শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে, যদিও মুক্ত বাকস্বাধীনতার উপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এই আইন অনুযায়ী, বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে নতুন প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা চালু করতে হবে। দেশে ডিজিটাল মিথ্যা তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে সেলিব্রিটিদের জড়িত উচ্চ-প্রোফাইল মামলাগুলোর কারণে।
বিরোধী রাজনীতিবিদ, নাগরিক গোষ্ঠী এবং মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই আইন মুক্ত বাকস্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং সরকার-প্রভাবিত জনমত নিয়ন্ত্রণের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
নতুন আইনের বিধানসমূহ
এই আইনের অধীনে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ মিথ্যা বা পরিবর্তিত তথ্য ছড়ায় তাদেরকে আসল ক্ষতির পাঁচগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। পুনরাবৃত্তি অপরাধীদের জন্য আদালতের রায়ে অবৈধ বিষয়বস্তু থাকলে এক বিলিয়ন ওন (প্রায় ৬৫৫,০০০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
নেভার, কাকাও, গুগল এবং মেটা সহ প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের জন্য অভিযোগ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং প্রতি ছয় মাসে অভিযোগ এবং গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর বিবরণী প্রকাশ করতে হবে।
মিথ্যা তথ্যের উদাহরণ
দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২৪ সালের মার্শাল আইন প্রয়াসের পর অনলাইন মিথ্যা তথ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে চীনের নির্বাচনী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অপ্রমাণিত অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, একটি হাই-প্রোফাইল মামলায় একজন ডানপন্থী ইউটিউবারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অভিনেতা কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আইনের সমালোচনা
আইনের সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে মিথ্যা বা পরিবর্তিত তথ্যের স্পষ্ট আইনি সংজ্ঞার অভাব এই আইনের প্রথম দিকে অনিশ্চয়তা এবং অত্যধিক ব্যাপক আইনি কার্যকর করতে পারে।
প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি) এই সংশোধনের সমালোচনা করেছে, দাবি করে যে প্ল্যাটফর্মগুলো সরকারের সাথে দ্বন্দ্ব এড়াতে বিষয়বস্তু কেন্সার করবে এবং ব্যবহারকারীরা স্ব-সেন্সর করবে।
কোরিয়ার সাংবাদিক সমিতিও জনস্বার্থে রিপোর্টিং এবং সংবাদ সংগ্রহ দমন না হওয়ার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাইছে।





























