সংসদ অধিবেশনে তথ্যমন্ত্রী জাহিরউদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দুটি প্রকল্প চালু করেছে। তিনি জাতীয় সংসদের মহিলা আসন-২৯ থেকে ফাহিমা নাসরিনের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এই বিষয়টি জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকার এআই-তৈরি ভুয়া তথ্য এবং ডিপফেক বিষয়বস্তুর বর্ধমান বিস্তার সম্পর্কে সচেতন এবং স্বীকার করেছেন যে অনেক মানুষ এই রকম প্রযুক্তির শিকার হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বপন বলেন, দেশের বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো একটি অ্যানালগ পরিবেশের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, যেখানে আবির্ভূত হুমকিগুলো সম্পূর্ণ ডিজিটাল চরিত্রের।
তিনি বলেন, 'আমরা একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান মানবসম্পদ কাঠামো একাই এই ডিজিটাল চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় যথেষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা প্রাথমিকভাবে একটি প্রকল্প-ভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছি।'
মন্ত্রী জানান, দুটি প্রকল্প ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে এবং সরকার ধীরে ধীরে ডিজিটাল হুমকি মোকাবেলার জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করবে।
বিরোধী দলের (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) আইনপ্রণেতা রশিদুল ইসলামের আরেকটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বপন বলেন, অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় সফল রূপান্তর এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সঠিকভাবে এই বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত নির্দেশ দিয়েছেন। কাজ অনুযায়ী অগ্রগতি লাভ করছে।
এআই-কে বাংলাদেশের জন্য অনন্য একটি চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্ভাবনী সমাধানের কাজ করছে, যেখানে বাংলাদেশও বিভিন্ন দেশের সাথে প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময় করছে।
স্বপন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকটি স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
তিনি বলেন, 'সহযোগিতার একটি মূল ক্ষেত্র হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে চীনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং প্রযুক্তির বিনিময়।' মন্ত্রী বলেন, চুক্তিগুলোর মাধ্যমে এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতের উদ্যোগগুলো আরও শক্তিশালী হবে।



















