রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় দুই ব্যক্তিকে অবৈধ মাদকসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে গ্রেফতার করেছে আরএবি। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, চুরি করা জিনিস ও মোবাইল রিচার্জ কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান ও গ্রেফতারের বিবরণ
আরএবি-৫-এর সিপিএসসি দল শনিবার রাতে উপজেলার ধোপাপাড়া মোহনপুর এলাকায় এক অভিযান চালায়। অভিযানে ধোপাপাড়া মোহনপুর গ্রামের ২৫ বছর বয়সী মিজানুর রহমান ও ধোপাপাড়া জিউপাড়া গ্রামের ৩৩ বছর বয়সী মিথুন আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
আরএবি জানিয়েছে, মিথুন আলী ধোপাপাড়া বাজারের নিজের মুদি দোকান থেকে চুরি করা ওষুধসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করত। শনিবার দুপুরে আরএবি জানতে পারে যে, ধোপাপাড়া বাজারে মিথুন আলীর দোকান ও মিজানুর রহমানের বাড়িতে অবৈধ মাদক ও বিভিন্ন চুরি করা জিনিস সংরক্ষিত রয়েছে।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিজানুরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় এবং তাকে আটক করা হয়। অভিযানে তার বাড়ি থেকে ২০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১৯ নিউপোম্যাক্স ফিলগ্রাস্টিম বিপি ৩০ এমইউ/০.৫ মিলি ইনজেকশন, ২১ জেনিম সিফেপাইম ১ গ্রাম ইনজেকশন, ২৪ প্যাকেট ডিডি ব্লু পাউডার ১০০ গ্রাম, ৯৮ মনোলোরিন ওয়াটার সলিউবল পাউডার, ৮০ প্যাকেট রাইজোম ৫০ ডব্লিউপি, ১৩ প্যাকেট লেজেন্ড বোরন বোরিক অ্যাসিড, ছয় বোতল উইন রান ব্রেক অয়েল, ছয় প্যাকেট বায়োমিন অ্যাকোয়াবুস্ট, আট প্যাকেট রাইজেব ৭২ ডব্লিউপি, ১৮ বোতল গিসমো ভেট সিরাপ ও ১৮ প্যাকেট নেটসুল ৮০ ডব্লিউডিজি উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও চার প্যাকেট কালো পিন, দুই প্যাকেট কালো ইউনিফর্ম কাপড়, তিনটি বড় থ্রেড রিল, দুই জোড়া গামবুট, টিপ বাটনসহ ২৪ কেজি ট্রান্সপারেন্ট পলি প্যাক, এইচপি কোর আই৫ ল্যাপটপ ও চার্জার, বিভিন্ন কোম্পানির ১৮২টি মোবাইল সিম কার্ড ও ৩৮৯ শীট মোবাইল রিচার্জ কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
আরএবি জানিয়েছে, প্রতিটি রিচার্জ কার্ডের মূল্য ২৯ টাকা এবং ১০ কার্ড প্রতি শীটে থাকায় মোট মূল্য ১ লক্ষ ১২ হাজার ৮১০ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির পাঁচটি বাটন মোবাইল ফোন, ব্লু ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিথিয়াম-আয়ন মিনি কাট-অফ টুল ও চার্জার এবং দুটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাত সাড়ে সাতটার দিকে পুঠিয়ার ধোপাপাড়া বাজারে মিথুন আলীর নিজের মুদি দোকানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে দোকান থেকে ৩৯৯ লিটার চুরি করা ফোর্টিফাইড সয়াবিন অয়েল ও ৪৯৮ পিস রুটা রেস ১০০ মিলি গ্রোথ প্রোমোটার সিরাপ উদ্ধার করা হয়। আরএবি জানিয়েছে, মিথুন আলী নিজের দোকান থেকে এই চুরি করা জিনিসগুলো সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করত। মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি আন্তঃজেলা চুরি দল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে চলমান ট্রাক থেকে জিনিস চুরি করত এবং পরে বিক্রি করত। দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ
আরএবি জানিয়েছে যে, অবৈধ মাদক ও অন্যান্য জিনিস উদ্ধারের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল পাঠানো হয়েছে।





































