ইরানের নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মাসউদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন যে, ইরানের নাগরিকরা বহু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি এই বিষয়টি স্বীকার করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে, যা ইরানের অর্থনীতিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য
রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, "আমি বুঝতে পারি, সমাজে এখন অনেক সমস্যা আছে। আমরা যতটুকু সম্ভব এগুলো প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি"।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিত
গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছিল, যা ইরানি অর্থনীতিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, তারা ইরানের ব্যবস্থা ধসে দেওয়ার লক্ষ্যে এই নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে।
পেজেশকিয়ান এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ইরান "সম্পূর্ণ মাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক এবং নিরাপত্তা যুদ্ধে" রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, "সে বলে যে সে ইরানের উপর সবচেয়ে দুর্দান্ত এবং ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে"।
অর্থনৈতিক সমস্যা এবং জনপ্রতিবাদ
ইরান সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার জনপ্রতিবাদের মুখোমুখি হয়েছে, যা প্রায়শই অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণে শুরু হয়েছে, যার মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রার মূল্যের ঝাঁকুনি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করে।
গত বছরের ডিসেম্বরে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শুরু হওয়া একটি প্রতিবাদ আন্দোলন ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় বিক্ষোভে পরিণত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, অস্থিরতার সময় ৩,০০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই হিংসাত্মকতার পিছনে দায়ী করা হয়েছে।
বিদেশ ভিত্তিক এনজিওগুলো দাবি করেছে যে, কর্তৃপক্ষ একটি নির্বিচারে দমন চালিয়েছে যা হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেছেন, "আমরা আমাদের সমস্ত হৃদয় দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি, জীবিকা নির্বাহের সমস্যা, বেকারত্ব এবং মানুষের ভবিষ্যত নিরাপদ করার চেষ্টা করছি, যাতে তারা মর্যাদা এবং গর্বের সাথে জীবনযাপন করতে পারে"।





































