মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কয়লা খনিতে ব্ল্যাক লং রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জন, যিনি কয়লা খনিতে ২০ বছর কাজ করেছেন, বর্তমানে শারীরিক কার্যকলাপ করতে অক্ষম। তাকে কয়লা কর্মীদের নিউমোকোনিওসিস বা ব্ল্যাক লং রোগ ধরা পড়েছে। জন তার পরিচয় গোপন রাখতে চান কারণ তিনি তার প্রাক্তন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
ব্ল্যাক লং রোগ হল এক ধরনের ফুসফুসের রোগ যা কয়লা ধূলি দীর্ঘমেয়াদীভাবে শ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে হয়। এটি ফুসফুসের মধ্যে দাগ তৈরি করে যা শ্বাসকষ্টের কারণ হয়। এই রোগের কোনও চিকিৎসা নেই এবং ফুসফুসের ক্ষতি উল্টানো যায় না।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ (NIOSH) একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে যা দেখায় যে ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে খনিতে কাজ করা এক তৃতীয়াংশ খনিকর্মীর মধ্যে ব্ল্যাক লং রোগ রয়েছে। গবেষণার সহ-লেখক স্কট লেনি বলেছেন যে এই হারটি ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে সর্বোচ্চ।
এই অঞ্চলে রোগের হার গত ২০ বছর ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণটি হল সিলিকা, যা কয়লা থেকে ২০ গুণ বেশি বিষাক্ত। কোম্পানিগুলো সহজে পাওয়া যায় এমন কয়লা উত্তোলন করে ফেললে, খনিকর্মীদের গভীর খনন করতে হয় যা সিলিকা ধূলি তৈরি করে।
ওক হিল শহরের একটি বিশেষ ক্লিনিকে ব্ল্যাক লং রোগের সবচেয়ে কম বয়সী রোগী মাত্র ৩০ বছর বয়সী ছিল। নিউ রিভার হেলথের ব্রিদিং সেন্টার অ্যান্ড ব্ল্যাক লং ক্লিনিকের পরিচালক এমারি বলেছেন যে এই রোগটি এখন শুধুমাত্র বয়স্কদের নয়, তরুণদেরও আক্রমণ করছে।
সরকারের মাইন সেফটি অ্যান্ড হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (MSHA) ২০২৪ সালে একটি নিয়ম গ্রহণ করেছিল যা সিলিকা ধূলির সংস্পর্শের সীমা কমিয়ে দেয়। তবে খনি সমিতিগুলো এই নিয়মের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। একটি ফেডারাল আপিল কোর্ট এই নিয়মটি স্থগিত করেছে।
এই রোগ শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খনিকর্মীদের ক্ষতি করছে না, এটি বিশ্বের অন্যান্য খনি শিল্পের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। বাংলাদেশে খনি শিল্প যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো নিরাপত্তা মান পালন না করে তাহলে এই ধরনের রোগের হার বৃদ্ধি পেতে পারে।







































