রংপুরের ম্যাচুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের ৪ জনের খুনের ঘটনায় ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ও সিআইডির সহযোগিতায় ২ জন ব্যক্তি আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল যাবা ট্যাবলেট খাওয়ার বিষয়ে বিবাদের কারণে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ আজ সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তরা খুনের ঘটনায় নিজেদের দায়ী স্বীকার করেছে।
পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রিতিলাতা চক্রবর্তী বলা (৫০), কন্যা আগমি চক্রবর্তী (২৫) এবং পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) এর মৃতদেহ শনিবার রাতে রংপুর ম্যাচুয়াপাড়া এলাকায় তাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। মৃতদেহগুলো পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
খুনের ঘটনার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ বিভিন্ন এলাকায় রাত্রিব্যাপী অভিযান চালিয়ে ২ জন ব্যক্তিকে আটক করে। আটককৃতদের নাম মুগ্ধ দাস (২৩) এবং সিদ্ধার্থ দাস (১৯), উভয়েই ম্যাচুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, অভিযুক্তরা খুনের ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্নান করে, খাবার খায় এবং যাবা ট্যাবলেট খায়। তারা ঘটনাটি অন্যরকম করে দেখাতে চেয়ে বাড়ির ফার্নিচার ছড়িয়ে দেয় এবং দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পাউডার মিশ্রিত জলে ভিজিয়ে দেয়।
মৃত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী খুনের ঘটনায় রংপুর কোতোয়ালী মেট্রোপলিটন পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে যাবা ট্যাবলেটের ব্যবহার একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। যাবা ট্যাবলেট হল এক ধরনের মাদক যা মেথামফেটামিন এবং ক্যাফিনের মিশ্রণ থেকে তৈরি করা হয়। এটি মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বসিত আচরণ এবং আগ্রাসনের কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যাবা ট্যাবলেটের ব্যবহার মারাত্মক অপরাধের দিকে পরিচালিত করে।





































