বিস্ফোরক বিভাগের প্রাথমিক খোঁজখবরে দেখা গেছে, সিতাকুণ্ডের ফার্ডৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে নয় শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের অতিরিক্ত উপস্থিতি। শিল্প মন্ত্রক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসবিআর) তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে যাতে ঘটনাটির তদন্ত করা হবে।
শিল্প সচিব আবদুন নাসের খান শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এ বিষয়টি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বিস্ফোরক বিভাগের পরীক্ষায় জাহাজটিতে হাইড্রোজেন সালফাইডের পরিমাণ সাধারণ সীমার চেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, কমিটিগুলোকে ঘটনাটির আগে এবং পরের ঘটনাপঞ্জির পাশাপাশি কোনও অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট ত্বরান্বিতভাবে জমা দেওয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করা হয়েছে এবং রিপোর্টের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিল্প সচিব আরও বলেন, বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনা স্থল থেকে বিষাক্ত গ্যাসটি নিরাপদভাবে দূর করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আরও ক্ষতি হতে রোধ করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কীভাবে বিষাক্ত গ্যাসটি দূর করা হবে?
বিস্ফোরক বিভাগের সহকারী পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাইড্রোজেন সালফাইড সাধারণত জলে দ্রবীভূত হয়। তাই তাদের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাহাজের অভ্যন্তরে জল দিয়ে ধুয়ে গ্যাসটি বের করে আনা হবে।
ঘটনার বিবরণ
এই দুর্ঘটনাটি শুক্রবার সকাল ৮:৩০-এ সিতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ফার্ডৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ঘটেছিল। জাহাজের একটি সীমিত অংশে শ্রমিকরা বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে আসে এবং ফলস্বরূপ নয়জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের দুই ভাই--মান্সুর আহমেদ ও নাসির উদ্দিন। বাকিরা হলেন সুন্নি দাস, পলাশ দাস, রানা মিয়া, হাবিবুর রহমান, খোকন মিয়া, আব্দুল আলীম সুজন এবং ১৭ বছর বয়সী মতিউর রহমান সজ্জাদ। কয়েকজন আরও শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে।

























