লালমনিরহাটে চা চাষের নতুন সম্ভাবনা খুলেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, চা চাষ লালমনিরহাটের অর্থনীতি ও কৃষি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত চাষ, আধুনিক যত্ন, প্রক্রিয়াকরণ ও ন্যায্য বিপণন নিশ্চিত হলে অঞ্চলটির চা শিল্প চাকরি সৃষ্টি, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
মন্ত্রী দুলু শনিবার লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার পূর্ব বিছনাডাঙ্গী (দৌলবাড়ি) এলাকায় জেলায় প্রথম প্রতিষ্ঠিত 'সুমা চা বাগান' পরিদর্শন করার পর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, চা বাগানের উদ্যোগকারী শাহান আরা বেগম সোমা, ফারুক আলম এবং অন্যান্য স্থানীয় উদ্যোগকারীরা।
মন্ত্রী বলেন, লালমনিরহাটের মাটি, ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু চা চাষের জন্য খুব উপযোগী। তিনি বলেন, প্রতিবেশী পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় চা চাষ ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। তিনি বলেন, এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে লালমনিরহাটে চা শিল্পকে একটি শক্তিশালী এবং লাভজনক কৃষিভিত্তিক শিল্পে পরিণত করা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, সরকার চা শিল্পের উন্নয়নে সম্ভব সব সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, চা শুধু কৃষিজাত পণ্য নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে, নতুন উদ্যোক্তাদের সৃষ্টি করতে পারে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রধান কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হতে পারে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার পাশাপাশি লালমনিরহাট চা শিল্পে একটি প্রতিশ্রুতিশীল জেলা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ২০০ একর জমি জুড়ে চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই বাগানগুলো প্রতি বছর প্রায় ১,৪০০ মেট্রিক টন চা পাতা উৎপাদন করে।
স্থানীয় উৎপাদিত চা পাতা প্রক্রিয়াকরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্থানীয় চা বাগানের মালিকদের যৌথ উদ্যোগে 'সোমা এন্ড সোমা টি প্রসেসিং লিমিটেড' নামে একটি চা প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি স্থানীয় উৎপাদিত চা পাতার মূল্য সংযোজন এবং বিপণনের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।





































