দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জাতীয় সংসদে বলেছেন, সরকার আলোর আঘাত প্রবণ উত্তর ও হাওর অঞ্চলে বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করবে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার আশ্রয়কেন্দ্রের মতো, আলোর আঘাত প্রবণ উত্তর ও হাওর অঞ্চলে বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হবে গ্রামীণ কৃষক ও জেলের জীবন রক্ষায়।
মন্ত্রী এই বিবৃতি দিয়েছেন রাজিং পার্টির সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার দাবির প্রেক্ষিতে। মন্ত্রী বলেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এখন একটি প্রকল্প গ্রহণ করছে যাতে আলোর আঘাতে মৃত্যু হ্রাস করা হবে।
প্রকল্পের বিবরণ
নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ১৫টি জেলার আলোর আঘাত প্রবণ অঞ্চলে আশ্রয় কেন্দ্র ও আলোর আঘাত রোধক যন্ত্র স্থাপন করা হবে। চালান বিল, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনা এবং উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে এই কেন্দ্রগুলো তৈরি করা হবে।
এই কেন্দ্রগুলোতে আলোর আঘাত রোধক যন্ত্র ও কৃষকদের অস্থায়ী আশ্রয় স্থাপন করা হবে। মেঘলা আবহাওয়ায় সাইরেন শোনার পর কৃষকরা দ্রুত এই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবেন।
আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি
আলোর আঘাতে মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা ২৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
তিনি আরও বলেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আলোর আঘাত সংক্রান্ত ঝুঁকি হ্রাস এবং জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি আলোর আঘাতের পূর্বাভাস গণমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর) সিস্টেমের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সচেতনতা অভিযান
মন্ত্রী বলেছেন, পামফ্লেট, পোস্টার এবং বিশেষ ড্রিলের মাধ্যমে ক্ষেত্র পর্যায়ে সচেতনতা অভিযান চালানো হচ্ছে।
আলোর আঘাতের পরিসংখ্যান
বাংলাদেশে আলোর আঘাত একটি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা বার্ষিক গড়ে ৩০০ জনের প্রাণ নিয়ে যায়। বেশিরভাগ শিকার হচ্ছেন খোলা ক্ষেতে আটকা পড়া কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমিক, বিশেষ করে বর্ষাকালীন ঝড়ের আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত।
২০১৬ সালে এক দিনে ৮০ জন মানুষের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ আলোর আঘাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে। তারপর থেকে ক্রমাগত সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে যেমন পাম গাছ রোপণ, আলোর আঘাত রোধক যন্ত্র স্থাপন এবং আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি। তবে এগুলো কার্যকর হয়নি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৩,৪৮৫ জন মানুষ আলোর আঘাতে মারা গেছে। বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা ২০২০ সালে ৪২৭-এ পৌঁছেছিল। যদিও ২০২৩ সালে মৃত্যুর সংখ্যা কমে ৩২২ এবং ২০২৪-এর মাঝামাঝি সময়ে ২৭১-এ নেমে এসেছিল, ২০২৫ সালে আবার মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩৫০-এ পৌঁছেছে। এ বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।






























