সরকার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড় ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো দুর্যোগ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যার কারণে জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। বন্যাজনিত বার্তা প্রচার, রাস্তায় জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি, অনিরাপদ বাড়িতে যাওয়া থেকে বিরত রাখা, স্বাস্থ্যগত সতর্কতা বজায় রাখা, সাপকামড় প্রতিরোধ, শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ত্রাণ গ্রহণকালীন আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত রাখা, বিদ্যুৎ খুঁটি ও তারের কাছাকাছি না যাওয়া, স্থবির জল দূর করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এবং অন্যান্য জনসচেতনতামূলক কর্মসূখি পরিচালনা করা হচ্ছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি
সিলেট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে সুরমা, কুশিয়ারা, সারি-গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর জলপরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ বিন্দুতে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। হবিগঞ্জ জেলায় বৃষ্টিপাত হ্রাস পেয়েছে এবং বন্যাপানি অধিকাংশ স্থানে অবসর গ্রহণ করেছে। মৌলভীবাজার জেলায় বন্যার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলায় বর্তমানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না এবং নতুন কোনও পাহাড় ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। বন্যাপানি অধিকাংশ স্থানে অবসর গ্রহণ করেছে যদিও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি আসেনি। খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টিপাতের শুরু থেকেই ভূমিধস, বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করে আসছে।
কক্সবাজার জেলায় সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। তবে পেকুয়া উপজেলায় কিছু পরিবার এখনও বন্যাপানিতে ঘেরা রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং নতুন কোনও পাহাড় ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। ভারী বৃষ্টিপাতের শুরু থেকেই জেলা তথ্য অফিস ভূমিধস, বন্যা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং বন্যা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করে আসছে।
রাঙ্গামাটি জেলায় বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ভারী বৃষ্টিপাতের শুরু থেকেই জেলা তথ্য অফিস রাস্তায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে ভূমিধস-প্রবণ অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।
বন্দরবান জেলায় বর্তমান দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর জলপরিমাণ বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যাপানি অবসর গ্রহণ করেছে এবং মানুষ আশ্রয়স্থল থেকে বাড়ি ফিরছে। ভারী বৃষ্টিপাতের শুরু থেকেই জেলা তথ্য অফিস ভূমিধস, বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে আসছে।






























