রাজশাহীর গোদাগড়ি উপজেলায় ব্র্যাকের 'শিখা' প্রকল্পের একটি ওরিয়েন্টেশন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা, নির্যাতন ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিটিংটি আয়োজন করা হয়েছিল। গোদাগড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কনফারেন্স রুমে মিটিংটি অনুষ্ঠিত হয়।
মিটিংয়ে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও ইসরাত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোদাগড়ি মডেল পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন। 'শিখা' প্রকল্পের টেকনিক্যাল ম্যানেজার মিতা রানী সরকার মিটিংয়ের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন।
পরে প্রকল্প কর্মকর্তা মোতালিব হোসেন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন। তিনি মিটিং পরিচালনাও করেন। আয়োজকরা জানান, ব্র্যাকের 'শিখা' প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, কর্মক্ষেত্র এবং সম্প্রদায় গঠন করা যা লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা, নির্যাতন ও যৌন হয়রানি মুক্ত।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা অর্থায়নে এই প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পটি রাজশাহী, ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং নারায়ণগঞ্জ জেলায় বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় ২৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেডি-মেড গার্মেন্টস খাত, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিভিন্ন কার্যক্রম পরিকল্পিত
এছাড়াও, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, শিশু বিবাহ বন্ধ এবং নিরাপদ মোবিলিটি নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ঝুঁকি ম্যাপিং, পিতামাতার সাথে বৈঠক, লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি এবং যুব ফোরাম গঠন।
মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী ফারজানা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক আব্দুর রহমান, উপজেলা সামাজিক সেবা কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। জড়িতরা বলেন, 'শিখা' প্রকল্পটি রাজশাহী এবং দেশের অন্যান্য অংশে নারী, শিশু ও যুবকদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যমুক্ত সামাজিক পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




























