সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যবসা করার জন্য নানা উদ্যোগ নিতে চলেছে। জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্যগুলো জানান। ব্যবসা ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সেবায় সময়, ব্যয়, অনিশ্চয়তা ও দাপ্তরিক জটিলতা কমানো হবে।
নিবন্ধন ও অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ
ব্যবসা করার জন্য নিবন্ধন, বিভিন্ন অনুমোদন, ছাড়পত্রসহ অন্যান্য সরকারি সেবার আবেদন সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা মতামত বা ছাড়পত্র না দিলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।
অনলাইন ব্যবস্থা চালু
কোম্পানির নামের ছাড়পত্র, নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদান পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছোট ও নতুন ব্যবসার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা রাখা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধা
বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি ‘মাল্টিপল এন্ট্রি’ ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্লাগ অ্যান্ড প্লে সুবিধা
নির্বাচিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ বা সমন্বিত শিল্প-সুবিধা চালু করা হবে। জমি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক সংযোগ ও প্রাথমিক অনুমোদন আগে থেকেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুত রাখা হবে।
আধুনিকায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণ
কর, মূসক (ভ্যাট), কাস্টমস শুল্ক, বন্ড ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে ব্যবসা সহজ করতে একগুচ্ছ সংস্কার ও বিনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবছর বন্ডের নিরীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ক্ষুদ্র ঋণ
ডিজিটাল মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ক্ষুদ্র ঋণ বা ‘ই-লোন’ চালু করা হবে। গ্রাহকেরা কোনো ধরনের দাপ্তরিক জটিলতা ছাড়াই সম্পূর্ণ ডিজিটাল উপায়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ পাবেন।





























