ফাল্গুনের শেষ ভাগে এক অচেনা দুর্গম চরে গেলাম পাখি দেখতে। এর আগে কখনো এ চরে যাওয়া হয়নি। অজানা এই চরের নাম পুটনীর চর। চরটি আমাদের সুন্দরবনের সীমানার ভেতর। এখানে মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে।
সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিমের শেষ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের বুকে পুটনীর দ্বীপ জেগে উঠেছে। দুবলার চর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার আর মোংলা থেকে এর দূরত্ব ১১০ কিলোমিটার। এই চরের পরই শুরু বিশাল সমুদ্র।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাদের জাহাজটি বঙ্গবন্ধু চরে। সঙ্গে আছে ভাড়া করা সেই সাহসী নৌকাটি। এই চরে বিরল ইউরেশীয় ঝিনুকুমারের দেখা মিলল। ভোরেই নাশতা সেরে উঠে পড়লাম নৌকায়। সাগরের বুক চিরে যেতে হবে পুটনীর চরে।
পুটনীর চরে নেমেই এক অদ্ভুত অনুভূতি পেলাম। একেবারেই নীরব। শুকনো মরা গাছগুলো পড়ে আছে। মানুষের বিচরণ কম বলেই চরটি দেখতে এত জীবন্ত। ভাটার সময় বিধায় চারপাশে বিশাল বালুচর চোখে পড়ছে।
পুরো চরটির চারপাশ আমরা দেখব বলে দুই দলে ভাগ হয়ে গেলাম। বালুময় চরে হাঁটতে গিয়ে প্রায় সব জায়গায় লাল কাঁকড়ার দলের ঘোরাফেরা চোখে পড়ল। তিন জাতের মাছরাঙার দেখা পেলাম।
ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর চরের শেষ প্রান্তে গিয়ে বেশ গরম অনুভূত হলো। জোয়ার আসার সময় হয়ে গেছে। সাগরের পানিতে গা ভিজিয়ে নিলাম। বালুচরে দেখলাম বেশ কিছু সৈকত পাখি বিশ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।






























